মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণার মুহূর্তে অস্ত্র হাতে বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে করা এক প্রশ্নের মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিনি আসন্ন মেয়র নির্বাচনের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ইশরাক জানিয়েছেন, নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে লড়ার জন্য তিনি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন। দলের অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তাকে জয়ী করার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, “মেয়রের নির্বাচনের বিষয়ে বলেছি, এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং আমাদের আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উনার এখতিয়ারভুক্ত এবং উনার একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। “আমি যেটা বলেছি যে ইতিপ। সোমবার দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তার ‘যুদ্ধ’ চলবেই। সেখানে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি কি এখন মেয়র পদে নির্বাচনের কথা ভাবছেন।
স্মরণ করা যেতে পারে যে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে ইশরাক হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ইশরাককে প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল আগের সেই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল ইশরাককে ডিএসসিসি মেয়র ঘোষণা করে একটি গেজেট প্রকাশ করে। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস।
তবে গেজেট প্রকাশের পরপরই আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ইশরাকের শপথ গ্রহণ ঠেকাতে গত ১৪ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। একই দিন ইশরাককে দ্রুত শপথ পড়ানোর দাবিতে তার সমর্থকরা ব্যাপক আন্দোলন শুরু করেন। তবে সে সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইনি জটিলতার অজুহাতে ইশরাকের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে বিরত থাকে। সে সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন নগর প্রশাসনের নানা দুর্বলতা তুলে ধরেন। সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতয়ালী এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র মৌসুমি কর্মসূচি দিয়ে নগরের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এখানে বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যা, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অভাব এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রচণ্ড ঘাটতি রয়েছে, যা নগর জীবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দল ও শীর্ষ নেতৃত্ব। নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে শুধু নয়, নগরীর বিভিন্ন সমস্যাগুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী। তাদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে নগর ভবন।

