পাঁচ দিনের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ

ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি মেলায় ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত দীর্ঘ অবকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে সোমবার বিকেল থেকেই রাজধানী ছেড়ে নিজ গ্রামের বাড়ি ও স্বজনদের কাছে ছুটছেন কর্মজীবী নগরবাসী।

উৎসবের টানা ছুটিতে ঢাকার বাস টার্মিনাল, ট্রেন স্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কর্মব্যস্ত জীবন পেছনে ফেলে আপনজনের সান্নিধ্যে ফিরতে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছেন মানুষ। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে ঢাকা ছেড়ে শিকড়ের টানে বাড়ি ফেরার সার্বিক প্রস্তুতিতে সর্বত্র আনন্দ মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা যায় দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের বাড়ি ফেরার তাড়া। বিকেলের পর থেকেই বরিশালের লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। বরিশালগামী যাত্রী ভূবন চন্দ্র রায় জানান, গ্রামে মা-বাবা ও স্বজনরা অপক্ষায় আছেন এবং পূজার আনন্দে পরিবারের সবাই মিলে এক সঙ্গে থাকতে পারাই তার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের বিষয়।

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারগুলোতেও। আরামবাগের কুমিল্লার বাস তিশা প্লাসের কর্মী জয়নাল জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় সোমবার কাউন্টারে চাপ অনেক বেশি ছিল। তবে যাতায়াতে চাপ বাড়লেও বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না এবং আগের নির্ধারিত ভাড়াতেই টিকিট বিক্রি চলছে।

কমলাপুর রেল স্টেশনেও টিকিট কেটে ট্রেনে ওঠার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বহু মানুষকে। দীর্ঘ ছুটি পাওয়ার সুযোগে ঝক্কিঝামেলা এড়াতে অনেকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন, যাতে পুজোর প্রতিটি মুহূর্ত পরিবার ও আত্মীয়দের সঙ্গে আনন্দে কাটানো যায়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি শিকড়ের টানে ফেরার অন্যতম আবেগঘন উপলক্ষ। রাজধানীতে বসবাসরত অনেকেই বছরজুড়ে এই দীর্ঘ ছুটির জন্য অপেক্ষা করেন। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো অভিযোগ না পাওয়া গেলেও ছুটির সময় যাতায়াতের ঝামেলা কমাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেখা গেছে।

কর্মসূত্রে রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকেই সারা বছর এমন ছুটির অপেক্ষায় থাকেন।

ফলে ছুটি শুরুর আগেই রাজধানীর বিভিন্ন গণপরিবহনকেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের আনাগোনা বেড়েছে।

পূজার প্রস্তুতিতে পরিবারের পাশে থাকা, মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শৈশবের পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের বাড়ি ফেরার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কেউ ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে, কেউ যাচ্ছেন আত্মীয়স্বজনের কাছে।

উৎসবের আনন্দ, পরিবারের সান্নিধ্য আর আপনজনের সঙ্গে সময় কাটানোর প্রত্যাশায় এই ঘরে ফেরা যেন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা নয়; বরং শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া, সম্পর্কের বন্ধন নতুন করে অনুভব করা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার এক আবেগঘন উপলক্ষ।