বিজয়ের অভিনয়ে আল্লু অর্জুনের ছায়া দেখছেন রাশমিকা

সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘রাণাবালি’-তে বিজয় দেবরকোন্ডার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে রাশমিকা মান্দানা আল্লু অর্জুনের পুষ্পা-২ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। রাশমিকা জানান, রাণাবালি চরিত্রে বিজয় এতটাই গভীরভাবে ডুবে গিয়েছিলেন যে, শুটিংয়ের সময় পর্দার বাইরের বিজয়কে তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তার মতে, অভিনেতা চরিত্রের মধ্যে এমনভাবে মিশে গিয়েছিলেন যে, বাস্তব জীবন আর অভিনয়ের মধ্যকার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

রাশমিকা আরও বলেন, শুটিং সেটে বিজয়কে দেখে তার মনে হতো যেন তিনি অন্য কোনো মানুষ। ক্যামেরার বাইরে আলাপ করার সময়ও বিজয়কে সেই রাণাবালি চরিত্রেই মনে হতো, যার ফলে রাশমিকার মনে বারবার এই প্রশ্ন জাগত যে আসলে আসল বিজয় কোথায়? বিজয়ের অভিনয়ের এই তীব্রতা ও গভীরতা বুঝতে শুরুতে তার কিছুটা সময় লেগেছিল। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি অভিনয়ের এক নতুন মাত্রা হিসেবে দেখছেন।

একই প্রসঙ্গে রাশমিকা পুষ্পা-২ চলচ্চিত্রে আল্লু অর্জুনের অভিনয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘পুষ্পা-২’ শুটিংয়ের সময় তিনি বান্নি স্যারের মধ্যেও একই রকম রূপান্তর লক্ষ্য করেছিলেন। বান্নি স্যার ব্যক্তিগত জীবনে যেমন, পুষ্পা চরিত্রে অভিনয়ের সময় তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ হয়ে উঠতেন। বিজয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। যারা পেশাদার অভিনেতা, তারাই অভিনয়ের সময় নিজেদের সত্তার এই আমূল পরিবর্তনের বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারেন। এর আগে ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’-এ কাজ করলেও রাণাবালির অভিজ্ঞতা তার কাছে একেবারেই অনন্য।

উল্লেখ্য, ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের ভয়াবহ মহামাদ্রাজের দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে রাণাবালি। ছবির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে রায়লসীমার পাহাড়ে জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি যোদ্ধা সিঙ্গানামালা বব্বিলি রাণাবালিকে ঘিরে। একজন দক্ষ অশ্বারোহী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার পর জয়াম্মাকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু দুর্ভিক্ষের চরম বিপর্যয়ে ঔপনিবেশিক শাসক ও নিষ্ঠুর কর্মকর্তা স্যার থিওডোর হেক্টরের লোলুপ দৃষ্টিতে যখন তার গ্রাম ও মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে, তখন স্ত্রী জয়াম্মাকে পাশে নিয়ে প্রতিরোধের ডাক দেন রাণাবালি। বিজয় ও রাশমিকা ছাড়াও এই চলচ্চিত্রে দ্য মমি খ্যাত অভিনেতা আর্নল্ড ভসলো একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।