বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে আবারো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিতর্কিত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম ব্যবহার করে আসা এই হুমকির পর মুম্বাই পুলিশ বান্দ্রায় অবস্থিত অভিনেতার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলিউড লাইফ জানিয়েছে, বিষ্ণোইয়ের ভাই পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি সালমান খানকে এই হুমকি পাঠান। বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সালমান খান যদি বেঁচে থাকতে চান, তবে তাকে বিষ্ণোইদের মন্দিরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে অথবা পাঁচ কোটি রুপি মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের গ্যাং এখনো সক্রিয় বলে বার্তাটিতে উল্লেখ করা হয়। মেসেজটা ছিল, ‘আমি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই বলছি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইমেইল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্যে সালমান খানকে দফায় দফায় হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাটিকে দায়ী করা হচ্ছে। বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করে, তাই এই ঘটনার জন্য সালমান খানকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এই হুমকির তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে মুম্বাই পুলিশ সালমান খানকে ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরির সুরক্ষা দিয়েছে। অভিনেতার বাসভবনের সামনে ও আশপাশের এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। সেই সাথে সালমানের যাতায়াত এবং শুটিং স্পটেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে, এমনকি তাকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বার্তাগুলোতে দাবি করা হয়, ১৯৯৮ সালের আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমান খান বিষ্ণোই সমাজের কাছে ক্ষমা না চাইলে তাঁকে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এর আগে গত বছর সালমান খানের বাড়ির বাইরে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনার সাথেও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য পর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে রয়েছে। বর্তমান হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখা (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হুমকির উৎস চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং যারা এর সাথে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রিয় তারকার ওপর একের পর এক এই হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সালমানের অনুরাগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভক্তরা সালমানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন ও মুম্বাই পুলিশের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

