অভিষেকের তাণ্ডবে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ জয় ভারতের

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিসংখ্যানকে যেন তুড়ি মেরে ওড়ানোই অভ্যাসে পরিণত করেছেন অভিষেক শর্মা। ওয়েলিংটনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক হাঁকিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন। মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথে তিনি সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন বৈভব সূর্যবংশীকে, যিনি ১৯ বলে ৪৫ রান করেন। তাদের দুজনের ওপেনিং জুটি মাত্র ৭.১ ওভারে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে। ফলে ১৯৯ রানের বড় লক্ষ্যটি ভারতের কাছে এক পর্যায়ে মামুলি মনে হয়েছিল এবং দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের ১৯৯ রানের পুঁজি ভারতের ব্যাটারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি, বরং তা যেন মুহূর্তেই বিলীন হয়ে গেছে।

রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স ও আবেগ

অভিষেক নিজের ৩০ বলের শতকের রেকর্ড ভাঙার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান। শতক পূর্ণ করার পর তিনি এক হাতে মুষ্ঠিবদ্ধ ঘুষি প্রদর্শন করেন এবং গর্জন করেন, এরপরই মাঠে ধ্যানের ভঙ্গিতে বসে পড়েন। আউট হওয়ার আগে তিনি ১১টি ছক্কা হাঁকান এবং তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৯৭.৩৭। যদিও যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে ৫০ রানের রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ রয়ে গেছে (অভিষেক করেছেন ১৫ বলে), তবে পাওয়ারপ্লেতে ১১৮ রান তুলে ভারত পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছে। যখন এই জুটি ভাঙল, ভারতের জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল ৭৭ বলে মাত্র ৬৬ রান, যা তারা অনায়াসেই পূরণ করে ফেলে ৪০ বল হাতে রেখেই।

ব্যাটিং তাণ্ডবের বিশদ বিবরণ

ম্যাচটি যেন আগের ওয়ান-সাইড সিরিজেরই পুনরাবৃত্তি ছিল। ভারত নিয়মিত ওপেনিং জুটি ভেঙে বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেয়, যা দারুণ কাজে দিয়েছে। অ্যাডাম মিলনে ১৭ রান, মাইকেল ব্রেসওয়েল ২১ এবং কাইল জেমিসন ২০ রান খরচ করেন এক ওভারেই। কিউই বোলাররা ক্রমাগত লেফট-হ্যান্ড ব্যাটারদের হোয়াইট ডেলিভারি দিয়ে যাচ্ছিলেন, যা দুই ব্যাটারকেই রান তোলায় সহায়তা করেছে। মিচেল স্যান্টনার নবম ওভারের আগে বোলিংয়েই আসেননি, আর সেই সময়ের মধ্যে ভারত ১৫৬ রান তুলে ফেলেছিল। শেষের দিকে কিছু উইকেট পড়লেও তা ভারতের জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ডের লড়াই ও ফিল্ডিং কৌশল

ভারতের জয়ে বড় ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হলেও, শুরুতে নিউজিল্যান্ড ভালোই লড়েছিল। শ্রেয়াস আইয়ার টস জেতার পর ভুবনেশ্বর কুমার ও আর্শদীপ সিং শুরুতে কিউইদের চাপে রাখেন। আর্শদীপ টিম সাইফার্টকে আউট করেন। এরপর ড্যারিল মিচেল ও ফিন অ্যালেন খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই মাঠের স্কয়ার বাউন্ডারিগুলো মাত্র ৫৬ ও ৬২ মিটারের হওয়ায় বোলারদের খুব সতর্ক থাকতে হয়েছে। নীতীশ রেড্ডি যখনই ফিন অ্যালেনকে আউট করেন, তখন থেকেই ভারত তাদের লাইন-লেন্থে পরিবর্তন আনে এবং ইয়র্কার ব্যবহারের মাধ্যমে রান আটকে দেয়। ড্যারিল মিচেল ৫২ বলে ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও তা কেবল ভারতের দাপটের সামনে একটি ফুটনোট হিসেবেই গণ্য হয়েছে।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৯৮/৩ (ড্যারিল মিচেল ৮৯*, ফিন অ্যালেন ৪০; আর্শদীপ সিং ১-৩৩)।
  • ভারত: ১৩.২ ওভারে ১৯৯/৪ (অভিষেক শর্মা ১১৩, বৈভব সূর্যবংশী ৪৫)।
  • ফলাফল: ভারত ছয় উইকেটে জয়ী।