বাংলা চলচ্চিত্রের নব্বইয়ের দশকের অন্যতম নন্দিত অভিনেত্রী শাবনাজের জন্মদিন আজ। বড় কোনো আয়োজন ছাড়াই পারিবারিকভাবে ঘরোয়া পরিবেশে দিনটি পালন করছেন তিনি। জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শাবনাজ মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সুন্দর একটি জীবন উপহার দেওয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মানুষের ভালোবাসায় আমি সব সময় সিক্ত। সবার দোয়া চাই যেন স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বাকি জীবন সুস্থভাবে কাটাতে পারি।’
ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে ১৯৯১ সালটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ১৯৯১ সালটি একটি ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তনকারী বছর।
প্রখ্যাত নির্মাতা এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমার মাধ্যমে সাবরিনা তানিয়া নামে পরিচিত শাবনাজের অভিষেক ঘটে নাইমের বিপরীতে। সিনেমাটি মুক্তির পর নবীন এই জুটি দর্শক হৃদয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তাদের হাত ধরেই বাংলা চলচ্চিত্রে তারুণ্যের এক নতুন জোয়ারের সূচনা হয়, যা পরবর্তী সময়ে সালমান শাহ-মৌসুমী এবং সালমান-শাবনূর জুটির উত্থানের পথ প্রশস্ত করে। সেই সময়ের জনপ্রিয় তারকাদের ভিড়ে শাবনাজ নিজস্ব অভিনয়ে তারুণ্যের নতুন ধারা নিয়ে এসেছিলেন। সিনেমাটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে রাতারাতি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেন শাবনাজ (পারিবারিক নাম সাবরিনা তানিয়া)। তৎকালীন শাবানা, কবরী, ববিতা, রোজিনা, সুনেত্রা, দিতি, সুচরিতা ও চম্পাদের মতো নামিদামি তারকাদের ভিড়ে শাবনাজ বাংলা চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছিলেন তারুণ্যের এক ভিন্ন ধারা। শাবনাজের বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ছিলেন গুণী পরিচালক আজিজুর রহমান। এর মধ্যে সালমান-শাবনাজ জুটির তিনটি সিনেমার মধ্যে ‘মায়ের অধিকার’ সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
পরিচালক আজিজুর রহমানের মাধ্যমে শাবনাজ রুপালি পর্দায় পা রাখেন। নাইম-শাবনাজ জুটি দর্শকদের উপহার দিয়েছে ‘জিদ’, ‘লাভ’, ‘সোনিয়া’, ‘অনুতপ্ত’, ‘চোখে চোখে’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘টাকার অহংকার’ ও ‘সাক্ষাৎ’-এর মতো ব্যবসাসফল সব সিনেমা। তবে ২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ ছিল এই জুটির শেষ বড় পর্দার কাজ। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তিনি আজিজুর রহমানের পরিচালনায় ‘ডাক্তার বাড়ি’ সিনেমাতেও এককভাবে অভিনয় করেন। জুটি হিসেবে তাদের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার সুবাদে পরবর্তীতে তারা একে অপরের বিপরীতে উপহার দেন একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা।
নাইমের বাইরে শাবনাজ হাতে গোনা কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে সালমান শাহের সঙ্গে তার অভিনীত ‘মায়ের অধিকার’, ‘আঞ্জুমান’ ও ‘আশা ভালোবাসা’ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ‘মায়ের অধিকার’ সিনেমাটি দর্শকদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি ছোট পর্দার ‘আকাশ কুসুম’সহ কয়েকটি নাটকেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
শাবনাজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বছর ১৯৯৬। ওই বছরের ৮ নভেম্বর মুক্তি পাওয়া নায়ক আলমগীর পরিচালিত ‘নির্মম’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি তার জীবনের একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। অভিনয়ের বাইরেও সামাজিক কাজে শাবনাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ‘বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি’র রক্ত কেন্দ্রে নিয়মিত রক্তদান করে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এরপর থেকে আজ অবধি বহু মানুষের বিপদে ও প্রয়োজনে নিয়মিত রক্ত দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

