তাহসিফ সৌরি মৃত্যু: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্থাটির সদস্যরা তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে হেফাজতে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের একটি বাসা থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। দীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে। এ বিষয়ে আমার আর বিস্তারিত কিছু জানা নেই।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে তাহসিফ সৌরির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তার হাতের ঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফকে শেষবার দীপের সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে তাহসিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীপ। এরপর তারা আলাদা মোটরসাইকেলে স্থান ত্যাগ করেন। পরিবারের ভাষ্য, দীপের অনুরোধেই তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। মোটরসাইকেলের সমস্যা সারানোর অজুহাতে তারা বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান বলে দীপ দাবি করেছিলেন। বিকেল সাড়ে ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারা হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর তারা বাসায় ফিরে খাবার খান।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীপের সম্পৃক্ততা বা ভূমিকা কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর থেকেই পরিবার এই মৃত্যুকে সন্দেহজনক বলে দাবি করে আসছিল। ২৯ অক্টোবর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। একই দিন বিকেলে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যু নিয়ে পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পিবিআইয়ের তদন্ত চলমান রয়েছে।