বাচসাস নির্বাচন ২০২৬-২৮: আবদুর রহমান-রাহাত সাইফুল পরিষদের ইশতেহার

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ৫৬ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। প্রিয় সহকর্মী, সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, বাচসাস শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি ৫৬ বছরের ইতিহাস, মর্যাদা ও ঐতিহ্যের নাম। আজ এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে আমরা এমন এক জায়গায় নিয়ে যেতে চাই যেখানে প্রতিটি সদস্য গর্ব করে বলতে পারবে – আমি বাচসাসের সদস্য।

২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সংগঠনটির হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার ও একটি শক্তিশালী আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আবদুর রহমান-রাহাত সাইফুল পরিষদ। প্রার্থীরা জানান, তারা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সদস্যদের সেবা ও দায়িত্ব পালনের ব্রত নিয়েই মাঠে নেমেছেন। আমাদের অঙ্গীকার: ঐতিহ্য রক্ষা, মর্যাদা পুনরুদ্ধার, ভবিষ্যৎ নির্মাণ। দাঁড়িয়ে হাঁটা সবার জীবনের লক্ষ্য না: তাসনুভা মোহনা। টোকিওতে হাসপাতাল, প্রবীণ পরিচর্যাকেন্দ্র ও জাদুঘর পরিদর্শন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান।

নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ছয় দফা ইশতেহারে সদস্যদের কল্যাণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে

  1. সদস্য কল্যাণই প্রথম অগ্রাধিকার: অসুস্থ বা অসহায় সদস্যদের জন্য কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়ে একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি সকল সদস্যের জন্য বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থা করা হবে।
  2. পেশাগত মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাব ও এফডিসিতে স্থায়ী অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো সদস্য হেনস্তার শিকার হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংগঠন আইনি সহায়তাসহ পাশে দাঁড়াবে এবং অপসাংবাদিকতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  3. আধুনিক ও শক্তিশালী বাচসাস গঠন: আগামী তিন মাসের মধ্যে ডিজিটাল আর্কাইভ, অনলাইন সদস্য ডাটাবেজ ও ওয়েবসাইট চালু করা হবে। এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাবের সহায়তায় সদস্যদের জন্য একটি সুসজ্জিত স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হবে।
  4. দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ: মোবাইল জার্নালিজম, ফ্যাক্ট-চেকিং ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার ওপর প্রতি দুই মাস অন্তর কর্মশালা আয়োজন করা হবে। নতুনদের জন্য মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম ও দেশের বাইরের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সদস্যদের সহায়তা দেওয়া হবে।
  5. বাচসাসের হারানো গৌরব ও নিরপেক্ষতা: বাচসাস পুরস্কারকে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পুরস্কারে রূপান্তর করা হবে। জুরি বোর্ডে সৎ সাংবাদিক ও বরেণ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়াও, ইশতেহারে গ্রুপিংমুক্ত ও প্রতিহিংসাহীন নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে জয়ী হলে সিনিয়রদের সম্মান ও জুনিয়রদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে এই পরিষদ।

নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২০ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।

সকল সদস্যের মূল্যবান রায়ে বাচসাস তার হৃত গৌরব ফিরে পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন আবদুর রহমান, রাহাত সাইফুল ও লিটন রহমান প্যানেলের সদস্যরা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সদস্য কল্যাণই প্রথম অগ্রাধিকার: – বাচসাস কল্যাণ তহবিল গঠন: অসুস্থ, দুস্থ ও বিপদগ্রস্ত সদস্যদের জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা (সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা) – প্রতি বছর সকল সদস্যের জন্য স্বাস্থ্য বীমা ও বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
  • বাচসাসকে শক্তিশালী ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর: – ডিজিটাল বাচসাস: ৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট, ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯৬৮ থেকে আজ পর্যন্ত সব বাচসাস পুরস্কার ও ইতিহাস), অনলাইন সদস্য ডাটাবেজ – স্থায়ী কার্যালয়: জাতীয়।
  • প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: – প্রতি ২ মাসে চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা, ফ্যাক্ট-চেকিং, ডিজিটাল কন্টেন্ট, মোবাইল জার্নালিজম বিষয়ে কর্মশালা – তরুণ সদস্যদের জন্য সিনিয়রদের নিয়ে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম – দেশের বাইরে চলচ্চিত্র উৎসব ক।