এইচএসসি পরীক্ষায় খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের করুণ বিপর্যয় ঘটেছে। চলতি বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যাদের প্রত্যেকেই অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার শূন্য হওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রম এবং সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি।
কলেজটির অধ্যক্ষ এস এম আকবর হোসেন জানান, ২৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল এবং নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতো না। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক বা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। অধ্যক্ষের দাবি অনুযায়ী, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া সত্ত্বেও অভিভাবকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সবাইকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে ফলাফলে।
বিষয়টি নিয়ে কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকশানা পারভীন জানিয়েছেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া মোটেও প্রত্যাশিত নয়। শিক্ষার এমন নাজুক অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে হতাশা বাড়ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পাঠদানের গুণগত মান ও শিক্ষকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষা কর্মকর্তা রোকশানা পারভীন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

