আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এই দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা। এর নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা দেশের জনজীবন, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিতে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলছে।” তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে একটি টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু কাঠামোতে পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন অপরিহার্য।” তিনি যোগ করেন, “জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুসংহত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে।”
দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
এই বিশেষ দিনটি ১৯৭২ সালের ৫ জুন শুরু হওয়া জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সম্মেলন (ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন দ্য হিউম্যান এনভায়রনমেন্ট) স্মরণে পালিত হয়। ওই সম্মেলন ১৯৭২ সালের ৫ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত চলেছিল। সেই থেকে প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় ১৯৭৪ সালে। প্রতি বছরই এই দিবসটি ভিন্ন ভিন্ন শহর ও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়ে থাকে। দিবসটি উপলক্ষে সরকার এবং বিভিন্ন পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক সংস্থা নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
