তপুর জোড়া গোলে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ইউরোপ জয়

প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো ফুটবল দলের বিপক্ষে তাদেরই ঘরের মাঠে খেলতে নেমে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। কোচ হিসেবে টমাস ডুলির অভিষেকও হয়েছে দারুণ সফল। তপু বর্মণের জোড়া গোলে সান ম্যারিনোকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।

সেরাভেলের সান ম্যারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শুক্রবার এই অসাধারণ জয় লাভ করে বাংলাদেশ।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও কৌশল

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের একদম তলানিতে থাকা দল সান ম্যারিনো, যাদের অবস্থান ২১১তম। তাদের চেয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল বিরূপ আবহাওয়ার মতো প্রতিকূল পরিবেশ। ম্যাচের শুরুতে তাই সফরকারীদের মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

বাংলাদেশের নতুন কোচ টমাস ডুলি মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় শমিত সোমকে বাইরে রেখে একাদশ সাজান। এই অবস্থানে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও সোহেল রানাকে হামজা চৌধুরীর সঙ্গী হিসেবে খেলানো হয়। দলটি ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঠে নামে।

প্রথমার্ধের ঘটনাবলী

সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশ দল নিজেদের গুছিয়ে নেয় এবং আক্রমণে ধারালো হয়ে ওঠে। দ্রুতই এর সুফলও পাওয়া যায়। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের বাড়ানো লম্বা ক্রস থেকে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ। এই গোলের সাথে সাথেই গ্যালারি উল্লাসে ফেটে পড়ে।

ইতালির অভ্যন্তরে অবস্থিত এই ছোট্ট দেশটিতে দলকে সমর্থন জানাতে সেদিন গ্যালারিতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

গোল হজম করে সান ম্যারিনো ম্যাচে ফিরে আসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং দ্রুতই তারা সফল হয়। ৩১তম মিনিটে ফরোয়ার্ড ফিলিপ্পো বেরার্ডির পাস থেকে চমৎকার একটি গোল করেন নিকোলাস জিয়াকোপেটি।

ছয় মিনিট পর বাংলাদেশের সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন, যা দলের জন্য একটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মুহূর্ত ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধের পরিবর্তন ও জয় নিশ্চিত

দ্বিতীয়ার্ধে দলের শক্তি ও কৌশল যাচাই করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কোচ একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন। এর ফলে খেলার গতি আরও বৃদ্ধি পায়। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও সাফল্যের দেখা মেলে। হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে গোলমুখে শট নেন বিশ্বনাথ ঘোষ, আর সেই শটে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান তপু বর্মণ। এটি জাতীয় দলের হয়ে তার অষ্টম গোল।

বাকি সময়ে এই গোল ধরে রেখে বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে, যা তাদের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

এর আগে ২০০১ সালে সাহারা কাপে বাংলাদেশ যুগোস্লাভিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলেছিল। তবে সেই দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশকে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের প্রথম জয় নথিভুক্ত করল।