প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সিঙ্গাপুর-কানাডা নয়, আমরা ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে চাই

‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে, তার সরকার সিঙ্গাপুর বা কানাডার মতো কোনো মডেল অনুসরণ না করে একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “আমরা প্রায়শই শুনতাম, বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানিয়ে ফেলবো, বাংলাদেশকে অমুক বানিয়ে ফেলব। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না। বাংলাদেশকে আমি একটু বেটার বানাতে চাই।”

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন এবং এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরী গড়ার আহ্বান

কক্সবাজার শহরকে একটি ‘পরিচ্ছন্ন নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে প্রবেশের সময় তিনি একটি বড় সাইনবোর্ড দেখেছেন, যেখানে লেখা আছে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সী বিচ, স্যান্ডি সী বিচ’। তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা সকলে মিলে কক্সবাজারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই কক্সবাজারকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে আপনাদের সবাইকে কিন্তু এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু তাই নয়, কক্সবাজারকে আপনারা সুশৃঙ্খল একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে সবগুলো যান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, সুন্দরভাবে পার্কিং করবে, সুন্দরভাবে চলাচল করবে, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলাচল করবে। যেখানে মানুষ হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করবে।”

১৭ বছরের উন্নয়ন বঞ্চনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিগত ১৭ বছরে কক্সবাজারের কোনো উন্নয়ন না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন এবং তার কাছে মনে হয়েছে, যে কাজগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এই কাজগুলো ১৭ বছর আগেই হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের অনেক কাজ জমে গেছে। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে, দেশকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হলে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রস্থান

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানি সম্পদ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্যগণ এবং বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন এবং রাত সোয়া ১২টার দিকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।