ফুটবল বিশ্বকাপ, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু, প্রায়শই ফিফার একটি বিশাল ‘বাণিজ্য বিতান’ হিসেবে সমালোচিত হয়। এই শিরোনামটি কেবল একটি খেলাধুলার মহাযজ্ঞ হিসেবে নয়, বরং একটি সুসংগঠিত এবং অত্যন্ত লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে বিশ্বকাপের আয়োজনকে তুলে ধরে। এটি প্রশ্ন তোলে যে, খেলাধুলার মূল চেতনা কতটা বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে চাপা পড়ে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরই ফিফার জন্য বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের উৎস। সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি, বিশ্বব্যাপী স্পনসরশিপ চুক্তি, টিকিট বিক্রয়, মার্চেন্ডাইজিং এবং আতিথেয়তা প্যাকেজ থেকে আসা অর্থ ফিফার কোষাগারকে সমৃদ্ধ করে। এই বিশাল আর্থিক লেনদেন এবং এর সাথে জড়িত কর্পোরেট স্বার্থের কারণে অনেকেই মনে করেন যে, বিশ্বকাপ এখন আর নিছক একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক মেলা যেখানে ফুটবল কেবল একটি পণ্য।
এই বাণিজ্যিকীকরণের ফলে খেলাধুলার বিশুদ্ধতা এবং ভক্তদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারণ থেকে শুরু করে আয়োজক দেশ নির্বাচন পর্যন্ত অনেক সিদ্ধান্তই বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে, বিশ্বকাপকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়, তার পেছনে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা যতটা কাজ করে, তার চেয়ে বেশি কাজ করে বাণিজ্যিক কৌশল। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিশ্বকাপকে ফিফার ‘বাণিজ্য বিতান’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যা খেলাধুলার বাণিজ্যিকীকরণের একটি প্রতীকী চিত্র।
