সাংবাদিকতার জগতে একটি ব্রেকিং নিউজ যেমন একজন প্রতিবেদককে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, তেমনি ভুল তথ্য প্রচার খ্যাতি তো দূরের কথা, চাকরিও কেড়ে নিতে পারে। এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন আর্জেন্টিনার সুপরিচিত টিভি উপস্থাপিকা ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া। তিনি সম্প্রতি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর একটি ভুয়া খবর প্রকাশ করেছিলেন, যার ফলস্বরূপ তাকে তার চাকরি হারাতে হয়েছে।
৫১ বছর বয়সী ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া লুজু টিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘এল শো দেল ভেরানো’-তে হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবরটি প্রচার করেন। মেসির পরিবার দ্রুত এই খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলে, এই উপস্থাপিকা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে, যেখানে আর্জেন্টিনা আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়লাভ করে। সেই ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী মেসি একটি অসাধারণ হ্যাটট্রিক করেন। একটি গোল করার পর তাকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখেই পেনিয়া ভুলবশত মেসির বাবার মৃত্যুর খবর প্রচার করেন।
সরাসরি সম্প্রচারের সময় পেনিয়া বলেন, ‘আমি কোনো খারাপ খবর দিতে চাই না, কিন্তু মেসির বাবা এইমাত্র মারা গেছেন। বিশ্বকাপের মাঝপথেই তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।’
মেসি পরিবারের প্রতিক্রিয়া
পরে মেসি পরিবার একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে পেনিয়ার দাবিকে অসত্য বলে আখ্যায়িত করে। বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘মেসি পরিবার নিশ্চিত করছে যে হোর্হে একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।’
পরিবার আরও উল্লেখ করে, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন খবর ও গুজবের কারণে পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক একটি বিষয়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে কিছু ব্যক্তি এর প্রতি প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা ও সম্মান প্রদর্শন করেননি।’
সাংবাদিক ও চ্যানেলের ক্ষমা
এই ঘটনার পর ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া নিজেও একটি বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পেনিয়া বলেন, ‘মেসি পরিবার যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এই কষ্টের কারণ হতে পেরে আমি গভীরভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত। সরাসরি সম্প্রচারের সময় অনুষ্ঠানের প্রোডাকশন টিম এই ভুল তথ্য আমাকে যাচাইকৃত তথ্য হিসেবে সরবরাহ করেছিল, এবং আমি তা বিশ্বাস করেছিলাম।’
পেনিয়া তার বিবৃতিতে আরও যোগ করেন, ‘তবুও আমি এই ভুলের সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করছি। তাই আমি লুজু টিভি থেকে সরে দাঁড়ানোর এবং এই অনুষ্ঠানে আমার অংশগ্রহণ সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আবারও হৃদয় থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমি ভুল করেছিলাম।’
লুজু টিভি কর্তৃপক্ষও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। তারা জানায়, ‘অনুষ্ঠান চলাকালীন যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো স্পর্শকাতর তথ্য প্রচার করা আমাদের চ্যানেলের নীতিবিরুদ্ধ এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
লুজু টিভি আরও উল্লেখ করে, ‘এই কারণে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়াও স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
চ্যানেলটি তাদের বিবৃতিতে শেষে বলে, ‘আমরা দায়িত্বশীল, শ্রদ্ধাশীল এবং নির্ভুল সাংবাদিকতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’
