ভ্যান্স নন, ট্রাম্পের দূত উইটকফ সুইজারল্যান্ডে: ইরান আলোচনায় বাধা দূর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা: উইটকফের সুইজারল্যান্ড সফর

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির শর্তানুযায়ী শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর স্থগিত করা হয়।

লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র সামরিক অভিযানের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল। কারণ, তেহরানের পক্ষ থেকে এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে ওই আলোচনায় বসতে রাজি হননি এবং এ কারণেই তিনি সুইজারল্যান্ডে যাননি। ভ্যান্স তাঁর সুইজারল্যান্ড যাত্রা স্থগিত করেছিলেন উইটকফের সফরের একদিন আগেই।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও ট্রাম্পের ভূমিকা

গতকাল শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। এই যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশের পরপরই মার্কিন দূত উইটকফের সুইজারল্যান্ড সফরের তথ্যও সামনে আসে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার পথে একটি প্রাথমিক বাধা দূর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে জানান যে, তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে অনুরোধ করেছেন। সংবাদমাধ্যমটির একজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলকে বলেছেন, মাঝেমধ্যে শান্ত হতে হয় এবং মাথা খাটাতে হয়।’ তবে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দিনভর গোলাগুলির পর লেবাননের স্থানীয় সময় গতকাল বিকেল চারটার দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের আলোচকেরা ইরানের সহায়তায় এই যুদ্ধবিরতি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সমঝোতা চুক্তি ও ইসরায়েলের আগ্রাসন

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এরপর একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য গতকাল থেকে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশযাপন কেন্দ্রে দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা ছিল।

তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকের প্রতি তোয়াক্কা না করে ইসরায়েল লেবাননে নৃশংসতা বাড়িয়েছিল। দেশটিতে এক দিনেই অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করেছে তারা। এমনকি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও লেবাননে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

বিশ্লেষকেরা আগে থেকেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন যে, ইসরায়েল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই সমঝোতা নস্যাৎ করতে চাইবে। ইসরায়েলের কট্টর ইহুদিবাদী নেতারা চান যে, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকুক।