ট্রাম্পকে হত্যার কথিত পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখনো কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও শেষকৃত্য চলাকালে মানবিক কারণে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে সামরিক তৎপরতা স্থগিত রেখেছিল। ঠিক সেই সময় পেন্টাগনের কাছে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একটি নতুন গোয়েন্দা সতর্কবার্তা পৌঁছায়। এতে দাবি করা হয়েছে, তেহরান আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গোয়েন্দা তথ্যটি কেবল ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনাকেই বাড়িয়ে তোলেনি, বরং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশের ধারণা, ট্রাম্পকে আবারও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে রাজি করাতে ইসরায়েল এই গোয়েন্দা তথ্য সামনে এনে থাকতে পারে। যদিও ইসরায়েলের দেওয়া এই সতর্কবার্তার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটি সামনে আসার আগে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্বভাবে এর সত্যতা যাচাই করেনি বা এমন কোনো নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের তথ্য তাদের কাছে ছিল না বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইরান প্রকাশ্যে বলে আসছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে এবং শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা ব্যানার দেখা যায়। চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প নিজেও জীবনের হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতাকে অর্থাৎ তাকে হত্যা করতে চায়। তিনি আরও জানান, আজ সকালে তিনি দেখেছেন তার নাম ইরানের সব তালিকাতেই রয়েছে।

ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছুটা কমেছে। যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে দুই নেতার ভিন্ন অবস্থানের কারণে তাদের সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়েছিল। নেতানিয়াহু সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতির আশঙ্কায় যুদ্ধের অবসানের পথ খুঁজছিলেন, যার ফলস্বরূপ গত মাসে উভয় দেশ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং দুই দেশ সমন্বয় অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কার্যক্রম সম্পর্কেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।