জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধর করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে তার দল। একই সাথে অভিযোগটি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. সাহিদুল আকরামের স্বাক্ষরিত ওই কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় এবং পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েলকে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, শুক্রবার বিকেলে প্রধান শিক্ষকের সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষিতে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে দলগতভাবে শোকজ ও তদন্ত কমিটি গঠনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে হারুনুর রশিদের বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলন করলে বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির নজরে আসে। এই ঘটনায় হারুনুর রশিদকে তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং অন্যথায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন যে, ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হারুনুর রশিদ তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেছেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গত ২২ জুন আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরেও জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে হারুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ইউনিয়ন বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অভিযোগটি দলীয়ভাবে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেই হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে জানান যে তিনি শোকজ নোটিশের একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছেন।
