নাসার ‘পারসিভারেন্স’ রোভার মঙ্গল গ্রহের পাথরে জটিল কার্বন অণু শনাক্ত করেছে। এই আবিষ্কারের ফলে গ্রহটিতে অতীতে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পারসিভারেন্স রোভারটি মঙ্গলের ‘ব্রাইট অ্যাঞ্জেল’ নামক একটি এলাকার কাদা-পাথরে এই জৈব কার্বন খুঁজে পেয়েছে। এই স্থানটি মূলত একটি প্রাচীন শুকিয়ে যাওয়া নদী অববাহিকা, যেখানে শত কোটি বছর আগে পানির প্রবাহ ছিল। রোভারটিতে থাকা ‘শার্লক’ নামের একটি যন্ত্রের মাধ্যমে এই কার্বন শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ম্যাক্রোমোলিকুলার কার্বন হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
এই কার্বন কোনো জীবিত প্রাণী বা জীবাণু থেকে উৎপন্ন হতে পারে, আবার পাথর ও পানির মতো প্রাকৃতিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়ও তৈরি হওয়া সম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা একে মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্বের শতভাগ নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না। ড. অ্যাশলি মার্ফি জানান, কার্বনটি জীবজগত থেকে আসার পাশাপাশি পাথর ও পানির বিক্রিয়া কিংবা বাইরে থেকে আসা উল্কাপিণ্ড থেকেও তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালে বিজ্ঞানীদের নজরে আসে ব্রাইট অ্যাঞ্জেলের এই কাদা-পাথরগুলো। সেখানে রোভারটি পৃথিবীর জীবাশ্মের মতো অদ্ভুত কিছু দাগ দেখতে পায়। নাসার সাবেক প্রধান শন ডাফি গত বছর মন্তব্য করেছিলেন যে, এটি হতে পারে মঙ্গলে প্রাণের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।
সাম্প্রতিক এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘চেয়াভা ফলস’ নামের একটি পাথরের ওপর লেজার রশ্মি ফেলে কার্বনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। এর মানে দাঁড়ায়, মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশ ও তেজস্ক্রিয়তা সত্ত্বেও এই জৈব কার্বন কোনোভাবে টিকে রয়েছে।
এই আবিষ্কারের তাৎপর্য অনেক। নাসার রোভারগুলো এখন পর্যন্ত মঙ্গলের বুকে দুই হাজার মাইলেরও বেশি এলাকাজুড়ে জৈব উপাদানের খোঁজ পেয়েছে। এর আগে ‘কিউরিওসিটি’ রোভার মঙ্গলের অন্য একটি স্থানে একই ধরনের উপাদান পেয়েছিল। অর্থাৎ, শত কোটি বছর আগে পুরো মঙ্গল গ্রহ জুড়েই প্রাণের অনুকূল পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই কার্বন প্রাচীন কোনো জীবাণু থেকে এসেছে কি না, তা রোভারের পক্ষে নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়। চূড়ান্ত উত্তরের জন্য নমুনাগুলো পৃথিবীতে এনে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নাসা ২০৩০-এর দশকে এই নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে চীন ২০৩১ সালের মধ্যে মঙ্গলের নমুনা পৃথিবীতে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
