ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এবার এমন কিছু ঘটনা ঘটছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিন দেশ মিলে যৌথভাবে আয়োজন, ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা—এমন অনেক কিছুই এবার প্রথম। তবে এর বাইরে আরও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটতে চলেছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি। প্রথমবারের মতো কোনো আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের দেশের বাইরে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে কানাডা।
৯৬ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় এবারই প্রথম কোনো স্বাগতিক দেশ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার জন্য বিদেশ সফরে পা রাখছে। রোববার রাতে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেসে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক কানাডা।
প্রকৃতপক্ষে, খেলার সূচি নির্ধারণের সময় তিন আয়োজক দেশকে নিজ নিজ গ্রুপে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, কানাডা যে ‘বি’ গ্রুপে ছিল, সেই গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের ভ্যাঙ্কুভারে রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচ খেলার কথা ছিল। ওই ম্যাচে সুইজারল্যান্ড অংশ নেবে, আর গ্রুপে রানার্স হওয়ার সুবাদে কানাডাকে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে খেলতে হচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০২ সাল ছাড়া প্রতিটি বিশ্বকাপেই মাত্র একটি দেশ আয়োজক ছিল। ফলে আয়োজক দেশ যতদূর পর্যন্তই অগ্রসর হোক না কেন, তাদের প্রতিটি ম্যাচ নিজ দেশের মাঠে খেলার সুযোগ ছিল। আবার ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে আয়োজন করলেও তারা নিজ নিজ দেশের বিভিন্ন শহরেই ম্যাচগুলো খেলেছিল।
তবে এবার সূচি অনুযায়ী কানাডা ও মেক্সিকোর জন্য দেশের বাইরে খেলার একটি সম্ভাবনা আগে থেকেই ছিল। কারণ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে অন্য দুই আয়োজক শেষ আট পর্যন্ত পৌঁছালে তাদের অবশ্যই নিজ দেশের বাইরে খেলতে হতো। কিন্তু সেই পরিস্থিতির আগেই কানাডা বিদেশের মাটিতে খেলতে নামছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়োজক দেশ হিসেবে এক বিরল নজির স্থাপন করবে।
