বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে সঞ্জয় দেব ও নোরা ফতেহির গাওয়া অফিশিয়াল গান ‘সির সির’ দর্শকদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। গানটির তালে মেতে ওঠেন বিশ্বজুড়ে সংগীত ও ফুটবলপ্রেমীরা। সেই উন্মাদনা এখনো চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ভক্তদের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশি–আমেরিকান ডিজে, সংগীত পরিচালক ও গায়ক সঞ্জয় দেব এবং বলিউড তারকা নোরা ফতেহি। শনিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে তাঁদের নতুন গান ‘চ্যাম্পিয়ান’।
ডালাস থেকে শনিবার সকালে সঞ্জয় জানিয়েছেন, এই গানটি মূলত বিজয়, আত্মবিশ্বাস এবং উদযাপনের বার্তা বহন করে। সঞ্জয় বলেন, ‘এটা কেবল কোনো খেলায় জেতার গান নয়। জীবনের যেকোনো লড়াই বা সংগ্রাম শেষে পাওয়া সাফল্য উদযাপনের গান এটি। আমরা চাই মানুষ গানটি শুনে ইতিবাচক শক্তি পাক এবং অনুপ্রাণিত হোক। “চ্যাম্পিয়ান” সবাইকে বিজয়ী হওয়ার অনুভূতি দেবে।’
গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি এর কথা লিখেছেন এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন সঞ্জয় নিজেই। প্রায় দুই মাস ধরে গানটির কাজ চলেছে। সঞ্জয় ও নোরার পরিকল্পনা ছিল বিশ্বকাপের এই বিশেষ সময়েই গানটি সবার সামনে নিয়ে আসার।
গানটির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার জানজিবারে। ভিডিও চিত্রায়নের জন্য সেখানে মাত্র দুই দিনের জন্য গেলেও সঞ্জয় ও নোরা এক দিনেই সব কাজ শেষ করেছেন। সঞ্জয়ের মতে, জানজিবারের মনোরম প্রকৃতি ও সমুদ্রঘেরা পরিবেশ ভিডিওটিতে এক বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
গানটি প্রকাশের আগ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন সঞ্জয় ও নোরা। নিজের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে নোরা ভক্তদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘বন্ধুরা, তোমরা সবাই “চ্যাম্পিয়ান”-এর জন্য প্রস্তুত তো?’ নোরার এমন পোস্টে ভক্তদের আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে গেছে।
নতুন গান নিয়ে ব্যস্ততার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফুটবলের আবহেও সময় কাটাচ্ছেন সঞ্জয়। বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল আটটায় ডালাসের স্টেডিয়ামে বসে আর্জেন্টিনা ও জর্ডানের ম্যাচ উপভোগ করার কথা ছিল তাঁর। এটি এবারের বিশ্বকাপে তাঁর মাঠে বসে দেখা তৃতীয় ম্যাচ। এর আগে তিনি কানাডা–বসনিয়া এবং স্পেন–সৌদি আরবের ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন।
তবে এবারের ম্যাচটি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি লিওনেল মেসিকে প্রথমবারের মতো সরাসরি মাঠে বসে দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সঞ্জয় বলেন, ‘মেসি একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। টিভিতে তাঁর খেলা অনেকবার দেখেছি, কিন্তু সরাসরি মাঠে দেখার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে এটি আমার জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।’
