ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সাপের ছোবলে মো. রাফসান শেখ (১৬) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে না নিয়ে ওঝার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টার কারণেই মূলত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। রবিবার ২৭ জুন ভোরের দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রাফসান শেখ উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের অমৃত নগর চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. লিটন শেখের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বাথরুমে যায় রাফসান। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে সাপে ছোবল দেয়। পরে পরিবারের লোকজন পার্শ্ববর্তী ঘোষপুর ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ির কানু মিনা নামের এক ওঝাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। ওই ওঝা ঝাড়ফুঁক করে তাকে ভালো করার চেষ্টা চালান। এরপর রাত ৪টার দিকে রাফসানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভোরের দিকে তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এনায়েত হোসেন জানান, এর আগেও গত ১৫ দিন আগে রাফসানকে তাদের পুকুর পাড়ে সাপে ছোবল দিয়েছিল। সেই সময়েও কানু মিনা নামের ওই ওঝাকে এনে ঝাড়ফুঁক করিয়ে তাকে সুস্থ করা হয়েছিল। শনিবারে পুনরায় সাপে ছোবল দিলে পরিবারের সদস্যরা আগের অভিজ্ঞতায় ওই ওঝাকে দিয়েই চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেন, যার ফলশ্রুতিতে ভোরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কে এম মাহমুদ রহমান জানান, রাত ৪টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় দায়িত্বে থাকা ডা. সুমন রায় রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সাপে কাটা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভ্যানম প্রয়োগের বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানান। কিন্তু রোগীর পরিবার অ্যান্টিভ্যানম দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের সম্মতিতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভোরের দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
