রাজধানীর মিরপুরে ব্যবসায়ী আফরোজ উদ্দিনের বাসায় ককটেল হামলার চার দিন পর গত শনিবার মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার হামলার পর ব্যবসায়ী আফরোজ উদ্দিন মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ব্যবসায়ী আফরোজ উদ্দিন মিরপুরের আলোচিত ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন হত্যা মামলার বাদী এবং তাঁর ছোট ভাই।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে দুই সন্ত্রাসী অটোরিকশায় চড়ে মিরপুর ২ নম্বরের ‘ই’ ব্লকে আফরোজ উদ্দিনের বাসায় ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। ককটেলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থাকা একটি মিনিট্রাকে লেগে বিস্ফোরিত হয়। এতে ট্রাকের ওপর থাকা ফুলের টব ও গাছ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পুরো দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহামুদুন্নবী জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মামলা নিতে কেন দেরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
বাদী আফরোজ উদ্দিনের অভিযোগ, হামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করলেও মামলা নিতে টালবাহানা করেছে। তিনি বলেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁর দেওয়া আসামির নাম ও বিবরণ বাদ দিয়ে নিজেদের মতো করে বিবরণ টাইপ করে স্বাক্ষর নিতে চেয়েছিল। পরে নানাভাবে ওসির সঙ্গে যোগাযোগের পর গত শনিবার বিকেলে মামলাটি গ্রহণ করা হয়।
আফরোজ উদ্দিন আরও জানান, বড় ভাই আফতাব উদ্দিনের হত্যা মামলাটি তুলে নিতে এজাহারভুক্ত আসামিরা তাঁকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছিল। ওই মামলায় তিনি ও অন্যান্য সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেন, খোরশেদ ও ‘ডিস’ শাহীন ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার পাঁয়তারা করছেন বলে তিনি মনে করেন। এর জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে ব্যবসায়ী ও মিরপুর ১ নম্বরের মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় আফরোজ উদ্দিন বাদী হয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদতসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। র্যাব-৪ তদন্ত শেষে শাহাদতসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আসামিদের মধ্যে শাহাদত ও খোরশেদ একাধিক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে বিদেশে পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালে মামলাটি ‘রাজনৈতিক হয়রানিমূলক’ হিসেবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সংবাদ প্রকাশের পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। ২০১৬ ও ২০২১ সালে আইনি জটিলতা তৈরি হলেও বর্তমানে এটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রভাবশালী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ২১ বছর ধরে মামলার বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করে আফরোজ উদ্দিন ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
