আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি নেই, দাবি জেডি ভ্যান্সের

ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্র অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনা সফল করতে আগ্রহী হলেও, কোনো কারণে চুক্তি না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো ক্ষতি হবে না। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং সামরিক শক্তি ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

জেডি ভ্যান্স আরও সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক জবাব দিতে প্রস্তুত। ভ্যান্স জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে আগের মতোই তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে। উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চললেও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শান্তি আলোচনার কথা স্বীকার করেনি।

এদিকে, গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্ক ও সংশয় তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ফ্রান্সের প্যারিসে ১৪ দফার এই সমঝোতায় সই করেছিলেন, যার মাধ্যমে ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়। বিশ্বনেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাটানকা জানান, ইরানের নেতারা প্রশ্ন তুলছেন যে, কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন কোথায়। তারা মূলত আটকে থাকা অর্থ ফেরত না পাওয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

ইরানের একটি অংশ আশঙ্কা করছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে এবং কোনো প্রকৃত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে না। এই অভ্যন্তরীণ চাপের কারণেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের দোহা সফরে গিয়ে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি।