জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, শেখ মুজিব ভারতের দাদা বাবুদের খুশি করার লক্ষ্যেই বাংলাদেশের সংবিধান তৈরি করেছিলেন। বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জয়পুরহাট শহরের প্রধান সড়কে পদযাত্রা শেষে শহীদ ডা. আবুল কাশেম মাঠে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে তিনি এই কথা বলেন। পাটওয়ারী বলেন, এই সংবিধানের কারণে হাজারো মায়ের বুক খালি হয়েছে। আমরা মুজিবের সংবিধানের পাহারাদার হব না, বরং সেই সংবিধান সংস্কার করে নতুন করে বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
আগামী স্থানীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হাজী শরিয়তুল্লাহর মতো লাঠিয়াল বাহিনীর আদলে সবাইকে লাঠি প্রস্তুত রাখতে হবে। কেন্দ্র দখল করতে কেউ এলে প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জুলাই হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে জনগণের প্রাণের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দাবি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিএনপির ৩১ দফাতেও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তারা ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গাদ্দারি করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
দেশে মাদকের বিস্তারের বিষয়ে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতারা দিনে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেও রাতে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে চাঁদা তোলেন, যা নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের ‘নীল দল’ নিয়ম ভাঙার রাজত্ব কায়েম করেছিল, আর এখন বিএনপিপন্থি ‘সাদা দল’ একই কাজ করছে। এমন পরিবর্তন তারা চাননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের বসিয়ে শিক্ষক নিয়োগ-বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজি চালাচ্ছে। এনসিপি ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা চায়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২৪০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার এবং বছরে ৩৫ লাখ টাকা খাওয়ার বিল নেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।

