বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষা এখন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। কেবল তারকারাই নন, সাধারণ মানুষও বলিরেখা বা ত্বক ঝুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কমাতে অ্যান্টি-এজিং থেরাপির দিকে ঝুঁকছেন। এই ধারায় নতুন সংযোজন হিসেবে বর্তমানে ‘চকলেট থেরাপি’ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিলাসবহুল স্পা ও বিউটি ক্লিনিকগুলোতে এখন ত্বকের যত্নে চকলেটের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনল ও পলিফেনলের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে এসব থেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
চকলেট অ্যান্টি-এজিং সিগনেচার ফেশিয়াল মূলত ত্বকের বলিরেখা ও ঝুলে যাওয়া ভাব দূর করতে ব্যবহৃত হয়। এতে ওটমিল ও কোকো ক্লিনজার দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করার পর এক্সফোলিয়েশন করা হয়। এরপর আলট্রাসনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডার্ক চকোলেট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিরাম ত্বকে প্রবেশ করিয়ে সবশেষে কোকো মাস্ক দিয়ে ম্যাসাজ করা হয়। প্রতি সেশনের জন্য সাধারণত ১,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে।
শরীরের ত্বকের যত্নে জনপ্রিয় ‘কোকো হাইড্রেটিং বডি র্যাপ’ থেরাপিতে গলানো ডার্ক চকোলেটের সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে শরীরে লাগানো হয়। শরীর থার্মাল ফয়েল বা চাদর দিয়ে ৩০ মিনিট ঢেকে রাখার পর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলা হয়। এই থেরাপির খরচ সেশনপ্রতি ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা। অন্যদিকে, রোদে পোড়া দাগ বা মেচেতা দূর করতে ব্যবহৃত হয় ‘হোয়াইট চকলেট অ্যান্ড রোজ ডি-ট্যান থেরাপি’, যার খরচ ১,২০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
হলিউড ও বলিউড তারকাদের মধ্যে জনপ্রিয় ‘চকলেট ও রেড ওয়াইন থেরাপি’ মূলত স্কিন গ্লো থেরাপি হিসেবে পরিচিত। এতে ডার্ক চকলেটের সঙ্গে রেড ওয়াইন ও মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের ক্ষতি কমাতে ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। নামী ক্লিনিকগুলোতে এই থেরাপির প্রতি সেশনে ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেকোনো বিউটি থেরাপি নেওয়ার আগে ত্বকের ধরন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

