মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের চাপ কমাতে দক্ষিণ কোরিয়ার সুদের হার বৃদ্ধি

দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো তাদের মূল সুদের হার বৃদ্ধি করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের ক্রমবর্ধমান গৃহঋণের লাগাম টানাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক মুদ্রানীতি আলোচনার পর ব্যাংক অফ কোরিয়া তাদের বেঞ্চমার্ক পলিসি রেট ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ থেকে ২.৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর এটিই প্রথম সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনা। এর আগে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে ব্যাংকটি সুদের হার স্থিতিশীল রেখেছিল বা কমিয়েছিল।

বর্তমানে দেশটির অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফর্ম করছে, যার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারের ফলে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি বৃদ্ধির বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ।

তবে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাংকটির ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি—মে ও জুন মাসে তা ৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং কোরিয়ান ওনের মান কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। একইসাথে সিউল ও আশপাশের এলাকায় আবাসন মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে চাঙ্গাভাবের কারণে গৃহঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দেশটির চিপ-চালিত প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও উৎপাদনমুখী শিল্প, বিশেষ করে রাসায়নিক ও জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থান এখনো শ্লথ। ব্যাংক অফ কোরিয়ার গভর্নর শিন হিউন সং জানিয়েছেন, ব্যাংকের সাত সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটির সবাই সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি, ভোক্তা মূল্য এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা—এই তিন দিক বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গভর্নর শিন আরও জানান, মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে লক্ষ্যমাত্রার উপরে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, তা পরবর্তী তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে। তিনি সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতির মধ্যে কোনো দ্বন্দ্বের আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি মে মাসের নীতি বৈঠকের পর থেকেই প্রত্যাশিত ছিল, যখন গভর্নর শিন জানিয়েছিলেন যে উপযুক্ত সময়ে সুদের হার বাড়ানো উচিত।