সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামক পরজীবীজনিত অসুস্থতার প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। এই রোগে আক্রান্ত হলে তীব্র ডায়রিয়া এবং অন্যান্য গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। ১৩ জুলাই পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) ১৬০০-এরও বেশি সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সংস্থাটি আরও ৫০০০ সম্ভাব্য সংক্রমণের ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করলে সংক্রমণের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হয়। উদাহরণস্বরূপ, মিশিগান অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ২৬০০ জনেরও বেশি মানুষ এই পরজীবী সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। সিডিসি জানিয়েছে, 'সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস' (Cyclospora cayetanensis) নামক অণুবীক্ষণিক পরজীবীর মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। সাধারণত দূষিত খাবার, বিশেষ করে শাকসবজি বা পানি পানের মাধ্যমে এই পরজীবী মানবদেহে প্রবেশ করে।
বর্তমানে সংক্রমণের এই বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। একাধিক অঙ্গরাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের পেছনে কোনো একটি সাধারণ উৎস কাজ করছে—এমন কোনো প্রমাণও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মিশিগানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাদের অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের উৎস হিসেবে লেটুস পাতার ভূমিকা থাকতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যকেও তারা সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইক্লোস্পোরিয়াসিস থেকে বাঁচতে সব ধরনের শাকসবজি খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্ক থাকা জরুরি। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. রাবিয়া ডি ল্যাটোর জানিয়েছেন, সংক্রমণের উৎস শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্যাকেটজাত লেটুস, ধনেপাতা, পার্সলে এবং রাস্পবেরি এড়িয়ে চলছেন। তবে কলা, কমলা বা কিউইয়ের মতো খোসাসহ ফলগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খেলে তা নিরাপদ বলে তিনি মনে করেন।
ডা. ডি ল্যাটোর আরও জানান, যদিও সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাণঘাতী নয় এবং এর চিকিৎসা রয়েছে, তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু ও ইন্টিগ্রেটিভ সায়েন্সের অধ্যাপক জোয়েলেন রাসেল টাটকা লেটুস এবং সালাদ মিক্সের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, যেসব অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে কৃষিকাজে ব্যবহৃত পানি দূষিত হওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে।
তাম্পা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান হাসপাতাল এপিডেমিওলজিস্ট ডা. কার্তিক চেরাবুড্ডি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শাকসবজি খাওয়ার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি। তাই রান্নার সময় সঠিক সতর্কতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সিডিসি পরামর্শ দিয়েছে যে, শাকসবজি রান্নার মাধ্যমে বা সঠিকভাবে ধুয়ে এবং প্রস্তুতকৃত খাবার দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

