সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কার গ্রামবাসীদের

আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের এই যুগেও নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের লালমনিপুর গ্রামের দেড় কিলোমিটার রাস্তা রয়ে গেছে পিচ বা ইটের ছোঁয়ার বাইরে। বছরের পর বছর ধরে কাঁচা রাস্তা আর নারদ নদের ওপর একটি বাঁশের সাঁকোই স্থানীয় হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরের দুয়ারে বারবার ঘুরেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক উপেক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেরাই রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

সোমবার সকাল থেকে লারমনিপুর গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ইটের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বছরের পর বছর আকুতি জানিয়েও কেবল মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি তারা। বাধ্য হয়ে গ্রামের ৫০ জন উদ্যমী তরুণ হাতে কোদাল তুলে নিয়েছেন। নিজেদের সাধ্যমতো অর্থ সংগ্রহ করে তারা ইট-সুরকি ও বালু কিনছেন। হাঁটু সমান কাদা ঠেলে দিনভর পরিশ্রম করে রাস্তাটিকে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছেন তারা।

রাস্তাটির এই বেহাল দশা কেবল যাতায়াতকেই ব্যাহত করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসায় যাতায়াত এবং কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা—সবই থমকে আছে এই রাস্তার কারণে।

গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রতি বছর বিপুল সরকারি অর্থ বরাদ্দ হলেও লালমনিপুর বা ডাঙ্গাপাড়ার মতো প্রত্যন্ত জনপদ কেন সেই সুবিধার বাইরে থাকে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় টেকসই অবকাঠামো গড়ে ওঠার কথা থাকলেও বাস্তবে তা না মেলায় নিজেরাই নিজেদের চলাচলের পথ তৈরির পথ বেছে নিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে গ্রামের তরুণ জাহিদ মেহেদী বলেন, তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে হয়তো সাময়িক চলাচলের একটি পথ তৈরি হচ্ছে, যা আঞ্চলিক অবহেলা ও প্রথাগত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু কঠোর প্রতিবাদ। স্থানীয়দের দাবি, এই একতা প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকে স্পষ্ট করে দিলেও একটি স্থায়ী পাকা রাস্তা ও নারদ নদের ওপর টেকসই সেতুর দাবি তাতে ফিকে হয়ে যায় না। কাজ শেষ হয়নি, তবে রাস্তাটি ব্যবহার উপযোগী করার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।