এক মাস পরও রহস্যের জট খোলেনি
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চকচৌকিবাড়ি (পরানপুর) গ্রামে মাদক সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে গুলিবিদ্ধ যুবক আরজু (৩০) নিহতের এক মাস অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এবং ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহত আরজু
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গ্রামের আব্দুল আলীমের বাগানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জের ধরে আরজুর ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আরজুর পায়ে গুলি লাগলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রেরণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশি তদন্ত ও পরিবারের নীরবতা
ঘটনার এক মাস পার হলেও গুলির উৎস, ব্যবহৃত অস্ত্র বা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য সামনে আনতে পারেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনার পরও আহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিবারের এই রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে – কে বা কারা গুলি চালিয়েছিল, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, এবং আহত ব্যক্তির পরিবার কেন মামলা করতে ভয় পাচ্ছে বা আগ্রহী হচ্ছে না? এসব প্রশ্নের উত্তর না মেলায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ প্রথম থেকেই অবগত। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ না পেলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
জনমনে আতঙ্ক ও দাবি
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রকাশ্য গুলির ঘটনায় দীর্ঘ সময়েও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এবং কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ওই এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
