দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার জয়, সিরিজে সমতা
অস্ট্রেলিয়া দলে একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে ছিলেন ন্যাথান এলিস। বল হাতে তিনিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সাথে স্পিনারদের কার্যকরী পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরালো অস্ট্রেলিয়া।
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২০০ রানে গুটিয়ে গিয়ে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার (২ জুন) লাহোরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচেও তারা বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জস ইংলিস এবং ক্যামেরন গ্রিনের অর্ধশতকে ভর করে সফরকারীরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩১ রান সংগ্রহ করে। মন্থর উইকেটে রান তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল পাকিস্তান। তবে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা শাদাব খান ১০৪ বলে ৭১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটিয়েই অস্ট্রেলিয়া নিজেদের জয় নিশ্চিত করে। পাকিস্তান ৪৪ ওভারে ১৯০ রানে অলআউট হয়ে যায়।
ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ৩৩ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন এলিস। ৩১ বছর বয়সী এই পেসার তার ১৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার কোনো ম্যাচে দুইয়ের বেশি উইকেট পেলেন। অফ স্পিনার ম্যাথু শর্ট ৩৬ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া, দুই লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও তানভির স্যাঙ্ঘা এবং বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট লাভ করেন। ঘাড়ের ব্যথার কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে না পারা জ্যাম্পা এই ম্যাচে পেসার বিলি স্ট্যানলেকের স্থলাভিষিক্ত হন।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস: ইংলিস ও গ্রিনের অর্ধশতক
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের প্রথম বলেই অ্যালেক্স কেয়ারিকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। শাহিন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের একটি বল টেনে এনে নিজের স্টাম্পে লাগান কেয়ারি। ম্যাথু শর্টও ১৫ রান (২৪ বলে) করে বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে শূন্য রানে ফেরা মার্নাস লাবুশেন এবার ৫ রান করে আউট হন। মাত্র ৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন। যদিও তাদের রান তোলার গতি ছিল বেশ ধীর। তারা ৯৩ বলে ৫১ রানের একটি জুটি গড়েন।
অর্ধশতক পূর্ণ করার পরপরই আরাফাত মিনহাসের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইংলিস। ৭৪ বলে ৫১ রানের তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের মার। এরপর পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিন ও ম্যাট রেনশ ইনিংসের সেরা ৬৫ রানের জুটি গড়ে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। গ্রিনও অর্ধশতক করার পর ইনিংসকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। ৯২ বলে ৫৩ রানের তার ইনিংসে ছিল দুটি ছক্কা ও একটি চার। প্রথম ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রান করা রেনশ এই ম্যাচেও ভালো পারফর্ম করেন। তিনি ৪৩ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ৪৩ রান করেন। ম্যাথু কুনেমান ও ন্যাথান এলিস ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি।
আগের ম্যাচে অভিষেক ইনিংসে ৭ রান করে ফেরা অলিভার পিক এই ম্যাচে শুরুতে কিছুটা সংগ্রাম করছিলেন। একপর্যায়ে তার সংগ্রহ ছিল ১৮ বলে ৯ রান। এরপর তিনি শাদাব খানকে একটি ছক্কা হাঁকান। শেষ ওভারে তার একটি চার ও একটি ছক্কার সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ২৩১ রানের সম্মানজনক স্কোর গড়তে সক্ষম হয়। এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ৩২ বলে ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের বোলিং: আফ্রিদি ও মিনহাসের সাফল্য
অভিষেক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়া স্পিনার আরাফাত মিনহাস এই ম্যাচেও দারুণ বোলিং করেন। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করেন। আরেক স্পিনার আবরার আহমেদ ৩৪ রানে এবং পেসার হারিস রউফ ৪৯ রানে ২টি করে উইকেট লাভ করেন। তবে ৩৫ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রথম ম্যাচে ৫৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা শাদাব খান এই ম্যাচে ৫৬ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
পাকিস্তানের ইনিংস: শাদাবের লড়াই
মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানকে হারায়। বাবর আজম (১৬ বলে ১৬ রান) শুরুটা ভালো করলেও বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি। তাকে আউট করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এলিস। আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই সালমান আলি আগাকে সাজঘরে পাঠান ম্যাথু শর্ট। এর কয়েক ওভার পর তার বলেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে আউট হন আব্দুল সামাদ। ফলে মাত্র ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান।
প্রথম ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকানো ঘাজি ঘোরি এই ম্যাচেও দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ৩৭ রানে তাকে অ্যাডাম জ্যাম্পা থামিয়ে দিলে পাকিস্তানের বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। তবে সপ্তম উইকেটে আরাফাত মিনহাসের সাথে ৫৯ রানের জুটি গড়ে শাদাব খান পাকিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। তৃতীয় স্পেলে বোলিংয়ে ফিরে এসে এলিস মিনহাসকে (৪৩ বলে ৩৩ রান) এলবিডব্লিউ করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন।
লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান শাদাব। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর এই সিরিজ দিয়ে ওয়ানডেতে ফেরা এই অলরাউন্ডার প্রায় চার বছর পর ৭৫ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আউট করে নিজের তৃতীয় উইকেট শিকার করেন ম্যাথু শর্ট। হারিস রউফকে বোল্ড করে চতুর্থ উইকেট তুলে নেন ন্যাথান এলিস। পরের ওভারে তানভির স্যাঙ্ঘার একটি ওয়াইড ডেলিভারিতে শাদাব স্টাম্পড হলে ম্যাচের সমাপ্তি ঘটে। আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে সিরিজের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
