যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি হ্রাস: প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই সময়ে আমদানির পরিমাণ ১১.২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো যেমন ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক বাজারে তীব্রতর প্রতিযোগিতার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটিইএক্সএ) কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-এপ্রিলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির মোট অর্থমূল্য ছিল ২৯৮ কোটি ১৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ২৬৪ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হলো, এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার সমমূল্যের পোশাক কম আমদানি করেছে।

অন্যদিকে, প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১.৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৮ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার ডলার থেকে ৫১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে কম্বোডিয়া থেকে আমদানি ১৪.০৭ শতাংশ বেড়ে ১২৩ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার থেকে ১৪০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রেও ২.২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে; দেশটি থেকে আমদানি বেড়ে ১৬০ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজার ডলার থেকে ১৬৩ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ভিয়েতনাম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশ। এই সময়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, যার পরে রয়েছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও কম্বোডিয়া। শুধু এপ্রিল মাসের চিত্রও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ছিল না। এই মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ১৭.২১ শতাংশ কমে ৭৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার থেকে ৬২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ১১.৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ওটিইএক্সএ-এর তথ্যমতে, জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশী পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ছিল প্রতি বর্গমিটার সমতুল্যে ২ ডলার ৯৭ সেন্ট, যা এক বছর আগে ছিল ৩ ডলার ৫ সেন্ট। ফলে ইউনিট মূল্য ২.৪৫ শতাংশ কমেছে। অর্থমূল্যের পাশাপাশি পরিমাণগত হিসাবেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি কমেছে। জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানীকৃত পোশাকের পরিমাণ ৯.১ শতাংশ কমে ৯৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার থেকে ৮৯ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার বর্গমিটারে নেমে এসেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম সবচেয়ে বেশি পোশাক সরবরাহ করেছে। দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ২.৬৯ শতাংশ বেড়ে ১৪৮ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার থেকে ১৫২ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার বর্গমিটারে উন্নীত হয়েছে। ওটিইএক্সএ-এর তথ্য আরও বলছে যে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির অর্থমূল্য ১২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬২২ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার থেকে ২ হাজার ৩০৭ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ১২.৯২ শতাংশ কমে ৮৪০ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার বর্গমিটার থেকে ৭৩২ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিক বাজার সংকোচনের মধ্যেও ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস থেকে পোশাক আমদানি কমেছে।