বিডার প্রথম বিদেশি অফিস চীনে, আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু হবে

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ঘোষণা করেছেন যে, আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশের বাইরে বিডার প্রথম অফিস চীনে স্থাপন করা হবে। চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে অংশ নিয়ে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।

চীনা গণমাধ্যম সিজিটিএন-এর এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। আশিক চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, এই বিদেশি কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এর ফলে তাদের যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অনেক বেশি সুবিধাজনক ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম বৃহৎ উৎস হিসেবে চীন আবির্ভূত হয়েছে। এই গুরুত্ব বিবেচনা করে বিডা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ও স্বতন্ত্র সেবা কাঠামো তৈরি করেছে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথকভাবে কাজ করছে।

আশিক চৌধুরী জানান, গত বছরের শেষ দিকে বিডার অধীনে একটি বিশেষ ‘চায়না ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। এই ডেস্কে নিয়োজিত কর্মকর্তারা শুধুমাত্র চীনা বিনিয়োগকারীদের সহায়তা ও সেবা প্রদানে কাজ করছেন। চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও ফোকাসড সাপোর্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিনের সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গত মার্চ মাসে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছিলেন যে, এই কার্যালয় চীনে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করবে এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন উদ্বেগ দ্রুত সমাধানে কার্যকর সুযোগ তৈরি করবে।

তখন তিনি আগামী ছয় মাসের মধ্যেই অফিসটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে একটি অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। চীনা বিনিয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা উৎস পর্যায়েই সমাধান করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে, এই উদ্যোগকে সামনে রেখে বিডা অবকাঠামো খাতে ১৩টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল (চাইনিজ ইকোনমিক জোন) বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডার ধারণা, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিডার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বেসরকারি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সৌদি আরবের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। এই সময়ে মূল ভূখণ্ড চীন থেকে ৪ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং হংকং থেকে ১৭৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।