ব্রাজিলের ৩-০ জয়: স্কোরলাইন উজ্জ্বল, পারফরম্যান্সে প্রশ্ন

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৮৫তম দল হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। স্কোরলাইন স্বস্তিদায়ক হলেও সেলেসাওদের পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই জয় উদযাপনের উপলক্ষ তৈরি করলেও, দলের খেলায় বেশ কিছু প্রশ্ন থেকেই গেল।

গোল ব্যবধান নিয়ে চিন্তা

সীমিত সামর্থ্যের প্রতিপক্ষ হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স মোটেও উজ্জ্বল ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলোত্তির দল খেলার গতি কমিয়ে দেয়। প্রথমার্ধে কুনিয়ার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোলের পর, তারা গোল বাড়ানোর চেয়ে শক্তি সঞ্চয় ও সময় পার করার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল।

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করায় ব্রাজিলের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি শেষ ম্যাচেও এমন হয়, তাহলে এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল করতে না পারাটা সেলেসাওদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, কারণ গ্রুপের অবস্থান তখন গোল ব্যবধানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা

কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জুটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কুনিয়া প্রথমার্ধেই দুটি গোল করেন এবং ভিনিসিয়ুস টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেলেন। বিশেষ করে কুনিয়ার দ্বিতীয় গোলটি ছিল দুর্দান্ত; প্রতি আক্রমণের সুযোগে ভিনিসিয়ুস বল বাড়ান এবং কুনিয়া বক্সের ভেতর থেকে ভারসাম্য হারিয়েও বাঁ পায়ে অসাধারণ শটে গোল করেন।

তবে, একজন প্রকৃত নাম্বার নাইনের অভাব ব্রাজিলের খেলায় স্পষ্ট। এই বিশ্বকাপে জাত স্ট্রাইকারহীন দল এখন সাধারণ ব্যাপার হলেও, ব্রাজিল এই পথে হেঁটে তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। ৫৭ মিনিটে মার্কিনিওসের চমৎকার লং পাস পেয়েও তিনি দ্রুত শট না নিয়ে বক্সের কিনারা দিয়ে ঘুরে ডান পায়ে কার্লার মারার চেষ্টা করেন, যা চতুর্থ গোলের সুযোগ নষ্ট করে।

মাঝমাঠের সমস্যা

কাসেমিরো এই ম্যাচে খেললেও তার মন্থর গতি ব্রাজিলকে ভুগিয়েছে। লুকাস পাকেতা ভালো শুরু করলেও ট্রানজিশনে তাকেও ধুঁকতে দেখা গেছে। এর ফলে হাইতি উভয় অর্ধেই বেশ কিছু আক্রমণ করতে সক্ষম হয়, যা ব্রাজিলের মাঝমাঠে সমস্যা রয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

৩-০ গোলের জয় স্বস্তিদায়ক হলেও, ব্রাজিলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বলছে দলটির এখনও অনেক উন্নতি প্রয়োজন। পুরনো সেলেসাও যুগের সেই ছন্দময় ফুটবল এবং ‘জোগো বনিতো’ এখনও অনেক দূরের পথ।