ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচে মোট চার গোল করে তিনি বর্তমানে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফর্মে রয়েছেন। ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ৩-০ গোলে জয়লাভ করেছে। ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে অন্য গোলটি করেছেন মাতেউস কুনিয়া।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জোড়া গোল করেছেন। তবে ম্যাচে তার আরও একটি গোল বাতিল করা হলে তা নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বল দখলের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে সামান্য স্পর্শ করার অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়। এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। শেষ বত্রিশে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান, নেদারল্যান্ডস অথবা সুইডেন। অন্যদিকে গোল ব্যবধানে মাইনাস তিন থাকায় স্কটল্যান্ডের শেষ ষোলোতে যাওয়ার পথ বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিন ম্যাচে চার গোল করা ভিনিসিয়ুসের বর্তমান সময়টিকে অনেকেই তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় হিসেবে দেখছেন। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে তিনি দলের অন্যতম প্রধান আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আনচেলত্তি তাকে উইংয়ের গণ্ডি থেকে বের করে আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় খেলাচ্ছেন, যার ফলে তিনি গোল করার সুযোগ পাচ্ছেন বেশি। ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনার ভুলের সুযোগ নিয়ে রায়ান বল কেড়ে নেন এবং ভিনিসিয়ুসকে পাস দেন। সেখান থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এই তারকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক গান নিশ্চিত দুটি গোল না বাঁচালে ভিনিসিয়ুস হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন।
স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ওপর খুব একটা চাপ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কট ম্যাকটমিনের একটি হেডার ছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো আক্রমণ ছিল না। এছাড়া ফার্গুসনের একটি শট এবং ম্যাকটমিনের আরেকটি হেড বাদে ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগকে খুব বেশি পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। ৬০তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট থেকে মাতেউস কুনিয়া ব্রাজিলের তৃতীয় গোলটি করলে ব্যবধান ৩-০ হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্রাজিল কোচ নেইমারকে মাঠে নামান। এই ম্যাচের মাধ্যমে নেইমার নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। দীর্ঘ ৯৮২ দিন বা ২ বছর ৮ মাস পর আবারও তাকে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলতে দেখা গেল। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর চোট ও পুনর্বাসনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আবারো ফুটবল মাঠে ফিরে এলেন। ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে ব্রাজিল ব্যবধান বাড়ানোর বেশ কিছু সুযোগ পেলেও স্কটিশ গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তা আর সম্ভব হয়নি।
