বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আজ হিউস্টনে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল ও জাপান। গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে হোঁচট খেলেও, পরবর্তীতে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেলেসাওরা। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এশীয় দেশগুলোর বিপক্ষে ব্রাজিলের পরিসংখ্যান বেশ ঈর্ষণীয়। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রতিবারই জয় পেয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আজ জাপানের বিপক্ষে জয় পেলে সেই রেকর্ড ‘পাঁচে পাঁচ’ পূর্ণ হবে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে যেকোনো অঘটনই সম্ভব, আর জাপান সেই অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে।
স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিজেদের কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজন বোধ করেননি। উইনিং কম্বিনেশনের ওপর আস্থা রেখে আগের ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই তিনি জাপান বধের মিশনে নেমেছেন। আলিসনের বিশ্বস্ত হাতে রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন দানিলো, মার্কিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস এবং দগলাস সান্তোস। মাঝমাঠের ভারসাম্য বজায় রাখতে থাকছেন ব্রুনো গিমারাইস, কাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা। আক্রমণভাগের ত্রয়ী হিসেবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাথে থাকছেন রায়ান ও মাতেউস কুনিয়া।
অন্যদিকে, ব্রাজিলকে আটকানোর লক্ষ্যে জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসু একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। সুইডেনের সাথে ড্র করা ম্যাচের একাদশ থেকে চারজন খেলোয়াড়কে পরিবর্তন করে কিছুটা চমক দিয়েছেন তিনি। রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে আয়ুমু সেকো ও কো ইতাকুরার বদলে দলে আনা হয়েছে তাকেহিরো তোমিয়াসু ও শোগো তানিগুচিকে। মাঝমাঠে আও তানাকার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন কাইশু সানো। এছাড়া কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রিতসু দোয়ানকে রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে খেলিয়ে আক্রমণভাগে জুনিয়া ইতোকে নামিয়েছেন মরিয়াসু। জিওন সুজুকির গোলরক্ষক হিসেবে শুরু করা এই ম্যাচে দাইজেন মায়েদা ও আয়াসে উয়েদারা আক্রমণভাগে ব্রাজিলের রক্ষণকে কতটা চাপে ফেলতে পারেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। হিউস্টনের এই লড়াই এখন কেবল একটি নকআউট ম্যাচ নয়, বরং ব্রাজিলের অপরাজেয় রেকর্ডের বড় পরীক্ষা।
