বন্দর নগরী চট্টগ্রামে লোডশেডিংয়ের তীব্র যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। গ্যাস–সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে ১০ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ ছিল না। তার মানে গ্যাস–সংকট থেকেই উৎপাদন কমেছে দুই হাজার মেগাওয়াট, যার ফলে ঘাটতি ৩০০ মেগাওয়াট। নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার বাসিন্দা কোহিনূর বেগম জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং গরমের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ কখন যায় আর কখন আসে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই, একবার গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে আর ফিরে আসে না।
লোডশেডিংয়ের এমন অসহনীয় চিত্র শুধু কোহিনূর বেগমের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো চট্টগ্রাম জুড়েই বিরাজ করছে। দিনে গড়ে ছয় থেকে আটবার পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। একদিকে বিদ্যুতের এই ভোগান্তি, অন্যদিকে জুন মাসে বেড়েছে বিদ্যুতের বিল। নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মী আমরিন আলম জানান, সারা দিন অফিসের কাজের পর বাসায় ফিরেও বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের খাবার তৈরি করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। গ্যাসের চাপ না থাকায় রাইস কুকারে রান্না বসিয়েও বিদ্যুতের অভাবে তা সম্পন্ন করতে পারছেন না তিনি। এছাড়া সকালের যাতায়াতে সিএনজি অটোরিকশার বাড়তি ভাড়াও তাঁর ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, চট্টগ্রামে বর্তমানে দিনে গড়ে আড়াই থেকে তিন শ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারছেন না। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে ২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। সোমবার সন্ধ্যায় ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৯৫০ মেগাওয়াট।
গ্যাস–সংকটের মূল কারণ হিসেবে মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটির অকার্যকারিতাকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট থেকে চার হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্যাস–সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া কঠিন। এদিকে, প্রবর্তক মোড় এলাকার একটি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সারা দিনে ১১ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে এবং ২৪ ঘণ্টায় মোট সাড়ে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না, যা জেনারেটর পরিচালনায় ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। রিকশাচালক মোহাম্মদ শাহজাহানও জানিয়েছেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে রিকশা চালিয়ে বাসায় ফিরেও লোডশেডিংয়ের কারণে শান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারছেন না তিনি।

