কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি, ক্ষোভ ও হতাশা

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে গত ১৩ জুলাই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছিল। এই ঘটনার ১০ দিনের মাথায় কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ মোট সাতজন শিক্ষককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে ছয়জন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে অপর একজন শিক্ষক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে ছিলেন না।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) ওএসডি (অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাঁদের বিভিন্ন কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। যদিও বদলির আদেশে ১৩ জুলাইয়ের জলাবদ্ধতার ঘটনার কোনো সরাসরি উল্লেখ নেই, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভাষ্য, ওই ঘটনার কারণেই তাঁদের বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে বর্তমান পদ ও কর্মস্থল থেকে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে। ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ওই তারিখের অপরাহ্ণ থেকে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে অবমুক্ত ও যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এই গণবদলি নিয়ে কলেজটির শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, ৩ ঘণ্টায় কুমিল্লা নগরে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। এটি নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা নিরসন করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। শিক্ষকেরা তো ইচ্ছা করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেননি, বরং ওই পরিস্থিতিতে দুর্ভোগের মধ্যেও পরীক্ষা গ্রহণ করেছেন। শিক্ষকেরা আরও জানান, অতীতে এই কলেজে একসঙ্গে এতজন শিক্ষককে বদলি করার ঘটনা ঘটেনি।

বদলির আদেশ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম, যাকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিনকে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকলেও তাঁর ছেলে পরীক্ষার্থী হওয়ায় তিনি পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। অন্যদিকে, অধ্যাপক আবদুল মালেক ছিলেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কনক বড়ুয়া ছিলেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। বদলি হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত