সংসদ কর্তৃক গঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। জাতীয় সংসদ গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করে। সরকারি দল থেকে বিরোধী দলগুলোর কাছে এই কমিটিতে ৫ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
কমিটি গঠনের শুরু থেকেই বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে অসহযোগিতার চিত্র দেখা গেছে। বিরোধী দলগুলো কোনো নাম প্রস্তাব করেনি এবং কমিটি গঠনের দিনই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে জানিয়েছিলেন, সংবিধান সংস্কারের দাবির সঙ্গে এই কমিটির ধারণাগত মতপার্থক্য রয়েছে। তারা মূলত সংবিধান সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
জামায়াত এই কমিটি বর্জন করলেও চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ এই কমিটির সদস্য। যদিও শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন যে তার অজান্তেই তাকে সদস্য করা হয়েছে, তবে সোমবার রাতে দলের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ জানান, সংস্কারের দাবি ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে নিজেদের মতামত তুলে ধরতেই তারা কমিটিতে অংশ নিচ্ছেন।
সংসদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বিশেষ কমিটি সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। এদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, বিএনপি এই কমিটিতে যোগ দেওয়াকে অর্থহীন মনে করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার নজির স্থাপন করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়ও বিএনপি তৎকালীন বিশেষ কমিটিতে অংশ নেয়নি। সেই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ সদস্যের ওই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপের সুপারিশ করেছিল। বর্তমানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সোচ্চার থাকলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, যার ফলে ওই পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

