দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের সততায় বাড়ল জনআস্থা: স্বর্ণের চেইন ফেরত পেলেন মালিক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি বাস দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চলাকালে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ আড়াই ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়েছে। পুলিশের এই সততার ঘটনা জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দাউদকান্দির মালিখিল নামক স্থানে ঢাকা মুখি লেনে একুশে পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা গাড়ির ভেতর থেকে একটি কৌটার মধ্যে আড়াই ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন খুঁজে পান। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মো: নাজমুল হাসান, কনস্টেবল হাফিজুর রহমান, সাইদুর, মনির ও তাজুল সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বর্ণালংকারের মালিক সালমা বেগমকে শনাক্ত করেন। এরপর সকাল সাড়ে দশটার দিকে তার হাতে অলংকারগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়।

নিজের হারানো অলংকার ফিরে পেয়ে সালমা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও তার প্রমাণ পেলাম।” পুলিশের এমন সততা দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ‘মানবিক পুলিশ, মানবিক পুলিশ’ স্লোগান দিতে শুরু করে।

এ বিষয়ে কনস্টেবল হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধারকাজ পরিচালনার সময় গাড়ির ভেতরে একটি সাদা কৌটা দেখতে পান। কৌটার মুখ খুলে তিনি এর ভেতরে স্বর্ণের চেইন দেখতে পান। বিষয়টি সার্জেন্ট নাজমুল স্যারকে অবহিত করলে তিনি ও তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ প্রকৃত মালিক সালমা বেগমকে খুঁজে বের করে তার হাতে অলংকারগুলো পৌঁছে দেন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, “প্রকৃত মালিকের কাছে তার মালামাল পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। আমার সহকর্মীরা তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করায় আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”