ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট অব্যাহত, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল আজহার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। জীবিকার তাগিদে গ্রাম থেকে শহরে ফেরা মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সাথে ভাগাভাগি করে শেষ হলেও মহাসড়কে যানজটের প্রকট সমস্যা কমেনি।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। নন্দনপুর থেকে কুট্রামোড়, ইসলামাবাদ, বাড়িউড়া শাহবাজপুর পর্যন্ত যানচাপ অবর্ণনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে তীব্র যানজটের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা এবং সিলেট-ঢাকা রুটের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে ব্যাপক যানজটের কারণে হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তীব্র যানজটে যাত্রী হয়রানি, শিশু ও বৃদ্ধদের অসহনীয় কষ্ট মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নরসিংদী এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার একমাত্র বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের মহাসড়ক এটি। সৌদি আরবগামী এক যাত্রী আশরাফুল ইসলাম জানান, যানজটের কারণে তিনি বাধ্য হয়ে সরাইল বিশ্বরোড থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম রোড দিয়ে ঢাকা হয়ে বিমানবন্দরে যাচ্ছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফেরা নিয়ে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সরাইল কুট্রাপাড়া, বিশ্বরোড মোড় গোল চত্বর এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। যাত্রী সাধারণ তীব্র যানজট ও গরমে অতিষ্ঠ। কোমলমতি শিশু, শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীরা ভীষণ কষ্টে পড়েছেন। অনেককে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও দূরপাল্লার বাসগুলোর আইন অমান্য করা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল না মানার কারণে গন্তব্যগামী মানুষ, গার্মেন্টস কর্মী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নরসিংদী ও ঢাকায় অফিস করেন, তাদের অনেকেই আজ অফিসে যেতে পারেননি। ঢাকায় অফিস করতে যাওয়া মোঃ আসিফ খান জানান, মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন যাবত মাধবপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকায় অফিস করছেন, কিন্তু আজ যানজটের কারণে যেতে পারেননি।

একাধিক চালক আব্দুল্লাহ, হোসাইন, মাসুক মনছুর দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, বড় বড় গর্ত, পানি জমে থাকা, রাস্তার কাজ এবং ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, মাধবপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার থেকে আসা ঢাকা গামী যাত্রীরা কষ্টে পড়েছেন। নরসিংদী গামী যাত্রী আনোয়ার মাসুদ বলেন, বিশেষ করে লোকাল বাসগুলো আইন না মানায় এবং ট্রাফিক সিগন্যাল পালন না করায় যানজট তীব্রতর হচ্ছে। এতে প্রায় প্রতিদিনই আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত, কোনো কোনো সময় বিশ্বরোড থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত জ্যাম লেগে থাকে, ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগছে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রী এবং চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিশ্বরোড খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, হাইওয়ে পুলিশ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট নিরসনে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে যানজট অনেক কমেছে। আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।