ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণাত্মক কৌশলের বিরুদ্ধে বেশ বেগ পেতে হয়েছে ফ্রান্সকে। লাতিন আমেরিকার দলটি প্রথমার্ধে ফরাসিদের সব আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয়। ম্যাচের আগে ধারণা করা হয়েছিল যে, এমবাপে, দেম্বেলে ও ওলিসেদের আটকাতে প্যারাগুয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নেবে, যা মাঠের লড়াইয়ে পুরোপুরি দেখা গেছে। তাদের আউটফিল্ডের ১০ জন খেলোয়াড়ই বেশিরভাগ সময় ডি-বক্স ও এর আশেপাশে অবস্থান নিয়েছিল।
প্রথম ২৫ মিনিটে ৮০ শতাংশের বেশি বল দখলে রেখেও ফ্রান্স উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি। ৩১তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের ক্রস থেকে এমবাপে সুযোগ পেলেও প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জের মুখে হেড করতে ব্যর্থ হন। বিরতির পর প্যারাগুয়ে কিছুটা ওপরে উঠে খেলার চেষ্টা করলে ফ্রান্সের জন্য আক্রমণের জায়গা তৈরি হয়। ৫২তম মিনিটে এমবাপের একটি সুযোগ কাসেরেস ক্লিয়ার করেন এবং এরপর মানু কোনের বুলেট গতির শট প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক ওরলান্দো হিল দারুণ নৈপুণ্যে রুখে দেন।
অবশেষে ৭০তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে। ডি-বক্সে দেজিরে দুয়ে ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সহায়তায় রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে সফল গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। এই গোলের পর প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা শারীরিক ফুটবলের মাধ্যমে লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করে। ম্যাচে ফ্রান্স ১৫টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, অন্যদিকে প্যারাগুয়ে পাঁচটি শট নিলেও মাত্র একটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচ শেষের দিকে এমবাপে আরও কয়েকটি সুযোগ পান। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে তার জোরাল শট গোলরক্ষক রুখে দেন। এরপর ১০ মিনিট যোগ করা সময়েও এমবাপে আরও দুটি দারুণ সুযোগ পেলেও হিল সেগুলো ব্যর্থ করে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে দিদিয়ে দেশোঁর দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সাত গোল ও দুই অ্যাসিস্ট নিয়ে এমবাপে এখন শীর্ষে। বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা ১৯টি। সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্স এখন মরক্কোর মুখোমুখি হবে।

