গ্রুপপর্বে টানা তিন জয়ে ১০ গোল করে নকআউটে জায়গা করে নেওয়া ফ্রান্স আজ তাদের নতুন অভিযানের সূচনা করবে। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বত্রিশের এই লড়াইয়ে শক্তিশালী ফ্রান্সের মোকাবিলা করবে সুইডেন। গত দুটি বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ফ্রান্সের লক্ষ্য এবারও শিরোপা জেতা। স্বপ্নপূরণের এই যাত্রায় নকআউটের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ, যার অংশ হিসেবে আজ ফরাসিরা তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিতে চাইবে।
গ্রুপপর্বে ফ্রান্সকে এই আসরের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে দেখা গেছে। তাদের আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর। এখন পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে প্রত্যেকে চারটি করে গোল করেছেন। এছাড়াও দিজিরে দুয়ে ও বার্কোলা গোল পেয়েছেন এবং মাইকেল ওলিসে দারুণ ছন্দে আছেন। সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে, আর দেম্বেলে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে রায়ান শেরকি ও মার্কাস সুরামও ব্যবধান গড়ে দিতে সক্ষম। তবে মূল আক্রমণভাগের ত্রয়ী এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও ওলিসে এখনো পূর্ণ শক্তিতে একসঙ্গে জ্বলে ওঠেননি, যা প্রতিপক্ষের জন্য বড় শঙ্কার কারণ।
সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ তার উত্তরসূরিদের সতর্ক করে বলেছেন, ফ্রান্সের এই দলটি পরিপূর্ণ এবং তাদের আক্রমণভাগ ভয়ংকর। তিনি মনে করেন, এমবাপ্পে, ওলিসে ও দেম্বেলে একসাথে জ্বলে উঠলে ফ্রান্সকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলে সুইডেনের বিশ্বকাপ যাত্রা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে। তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও পরবর্তী ম্যাচে সুইডেন নেদারল্যান্ডসের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল এবং জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হিসেবে নকআউটে এসেছে। আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর ইয়োকেরেসের মতো তারকা থাকলেও সুইডেনের রক্ষণভাগ এখনো কিছুটা নড়বড়ে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে বিগত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই পরাজিত হওয়া সুইডেনের হয়ে কথা বলেছেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড ইয়োকেরেস। তিনি বলেন, ফ্রান্সের মতো দলের বিপক্ষে জয়ের জন্য তাদের শতভাগের চেয়েও বেশি প্রচেষ্টা প্রয়োজন। রক্ষণভাগে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে এবং ছোট সুযোগগুলোকেও কাজে লাগাতে হবে। আন্ডারডগ হিসেবে মাঠে নামলেও সুইডেন নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখছে এবং বড় দলকে হারিয়ে অঘটন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।
