বিশ্বকাপ থেকে হাইতির বিদায়
ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দৌড় থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিয়েছে ক্যারিবিয়ান দেশ হাইতি। শুক্রবার রাতে শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তাদের এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি নিশ্চিত হয়। পশ্চিম গোলার্ধের অন্যতম দরিদ্র এই দেশটি ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছিল, তবে তাদের সেই স্বপ্নযাত্রা গ্রুপ পর্বেই থেমে গেল।
ব্রাজিলের জয় ও গোলদাতারা
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের হয়ে এই ম্যাচে জোড়া গোল করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তারকা ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনিয়া। এছাড়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেও একটি গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন।
হাইতির বিশ্বকাপ সম্ভাবনা শেষ
এই পরাজয়ের পর হাইতির বিশ্বকাপ সম্ভাবনা একেবারেই শেষ হয়ে যায়। যদিও শেষ ম্যাচে তাদের জন্য সেরা পরিস্থিতি হতে পারতো মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের জয় এবং একইসাথে ব্রাজিলের কাছে স্কটল্যান্ডের পরাজয়। এমনটা হলে হাইতির পয়েন্ট ৩ হতো এবং স্কটল্যান্ডের পয়েন্টও ৩-এ দাঁড়াতো।
তবে এই ফলাফলও হাইতিকে গ্রুপ তালিকার শীর্ষ তিনে নিয়ে আসতে পারতো না। কারণ এবারের বিশ্বকাপে পয়েন্ট সমান হলে দলগুলোর মধ্যকার মুখোমুখি লড়াই বা হেড টু হেডের ফলাফলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু হাইতি স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল, তাই দ্বিতীয় ম্যাচ শেষেই তাদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।
ফিফার নতুন টাইব্রেকার নিয়ম
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফিফা নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানের পরিবর্তে দলগুলোর মধ্যকার মুখোমুখি লড়াই বা হেড টু হেডের ফলাফলকে প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
১৯৭০ সাল থেকে ফুটবল বিশ্বকাপে গোল ব্যবধানকেই টাইব্রেকারের প্রধান নিয়ম হিসেবে ধরা হতো। তবে ফিফা এখন উয়েফার নিয়ম অনুসরণ করে এই পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোনো শক্তিশালী দল যদি তুলনামূলক দুর্বল দলের বিরুদ্ধে বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে, তবে যেন গ্রুপ টেবিলের অন্যান্য দলগুলো অযাচিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং পয়েন্টের হিসাব আরও বেশি ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়।
