স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বাজেট: জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ – ডা. বিটু

স্বাস্থ্য খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট: ডা. বিটুর সন্তোষ

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ায় গভীর সন্তোষ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি তার এই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ডা. বিটু একই সঙ্গে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন (বিএসসিআই)-এর যুগ্ম মহাসচিব এবং বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, একটি সুস্থ জনগোষ্ঠীই উন্নত, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। এই বিবেচনায় এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অসাধারণ গুরুত্বারোপ সরকারের মানবিক, দূরদর্শী ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রচিন্তার এক সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ বৃদ্ধি

ডা. বিটু জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে মোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই অনুপাত ছিল মাত্র ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অনুপাতে এই বরাদ্দ বৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগসমূহ

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট দূরীকরণে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আরও যেসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বরাদ্দ।
  • ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহে ৭ হাজার ৬২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ।
  • সারা দেশে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

তিনি মনে করেন, এসব উদ্যোগ মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাসের পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অসংক্রামক রোগ ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা

অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের দিকে ইঙ্গিত করে ডা. বিটু বলেন, হার্টের রিং (স্টেন্ট), চোখের লেন্স এবং ডায়ালাইসিস-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা উপকরণের ওপর কর ও শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জনবান্ধব পদক্ষেপ। একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার মতে, স্টেন্টের মূল্য কমলে লাখো সাধারণ মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে।

ডা. বিটু আরও বলেন, ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে। এছাড়া, বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ার গিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন তিনি।

জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়

ডা. মনোয়ারুল কাদির বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণকেন্দ্রিক, কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতের এই সাহসী পদক্ষেপগুলো তারই মূর্ত প্রতিফলন। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের স্বাস্থ্য বাজেটের সফল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করেন।