হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন বা বিস্ফোরক সরাতে ফ্রান্সসহ অন্য কোনো দেশের সাহায্য গ্রহণের বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত শান্তি আলোচনার আগে নিজেদের এই শক্ত অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেছে দেশটি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রন হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই জানিয়েছেন, এই কাজ করার মতো আইনি অধিকার ও সক্ষমতা ইরানের একারই রয়েছে। মূলত আমেরিকা-ঘেঁষা ইউরোপীয় দেশগুলোর খবরদারি এড়াতেই ইরান এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশ ওমানকেও কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। ওমান সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে মিলে ইরানের সীমানা এড়িয়ে জাহাজের জন্য নতুন পথের ব্যবস্থা করছে। বাঘাই সতর্ক করে বলেছেন, ওমান জাহাজের পথের বিষয়ে যদি যথাযথ সহযোগিতা না করে, তবে ইরান নিজস্ব ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। কারণ, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখাই ইরানের বড় শক্তির জায়গা।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হবে। এই আলোচনার ঠিক আগে গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুই ডজনের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কার্গো ও তেলের জাহাজও ছিল।
যুদ্ধের আগে এই পথে প্রতিদিন গড়ে ১১০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমান সংখ্যাটি তার তুলনায় অনেকটাই কম। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত কয়েক মাস ধরে এই এলাকায় জাহাজের দিকনির্ণয় বা জিপিএস ব্যবস্থায় যে মারাত্মক সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছিল, তা গত কয়েক সপ্তাহে অনেকটাই কমে এসেছে।
