ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ, জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত আর কার্যকর নেই। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরাসরি বলেন, আমার মনে হয় যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করে তাদের দুষ্ট ও অসুস্থ লোক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এরা ক্যান্সারের মতো এবং ক্যান্সার শুরুতেই থামিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখার আগ্রহ নেই জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তাদের সঙ্গে কাজ করা সময়ের অপচয় কারণ তারা মিথ্যা বলে। এছাড়া কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর, যার প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি অন্যতম। এসব হামলার পর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেনও বেজে ওঠে। তবে এখন পর্যন্ত এসব হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক হামলা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আরাগচি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি জানান, যেকোনো হামলার উৎস ও উৎপত্তিস্থলকেই ইরান পাল্টা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর তেহরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়। হামলার পর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।