যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭৫টি।
একই সঙ্গে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছর এই তালিকায় মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। এই ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যশোরের চারটি, সাতক্ষীরার চারটি, খুলনার দুটি এবং বাগেরহাটের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (পরীক্ষার্থী ১ জন) ও চান্দুয়া সমসকাটি গার্লস হাইস্কুল (৩ জন), শার্শা উপজেলার সাড়াতলা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল (২ জন) ও মুক্তিযোদ্ধা জিকেজিএস সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল (১ জন); সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সাতক্ষীরা নাইসা সেকেন্ডারি স্কুল (৭ জন), আশাশুনি উপজেলার গোদারা সেকেন্ডারি স্কুল (৪ জন), দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ধাপুখালি সেকেন্ডারি স্কুল (৪ জন) ও শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৪ জন); খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার কাতেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (৪ জন) ও খালিশপুরের আসমা সরওয়ার ইসলামিক উচ্চ বিদ্যালয় (৪ জন) এবং বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ডি এন একতা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (২ জন)।
গত বছর শতভাগ ফেল করা দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল নড়াইলের মুলাদি তালতলা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের নাহালখালি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই স্কুল দুটি থেকে একজন করে ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছিল।
বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে যশোর বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৫৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। অতীতে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২৪ সালে ৪২২টি, ২০২৩ সালে ১৯৩টি এবং ২০২২ সালে ৫১৩টি। এছাড়া ২০২৩ সালে যশোর বোর্ডের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—যশোরের শার্শা উপজেলার সাড়াতলা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরার তালা উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নড়াইলের মুলাদি তালতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীই অনুত্তীর্ণ হয়েছিল, যদিও ২০২৪ সালে শতভাগ অনুত্তীর্ণ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না।

