ঝিনাইদহে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মিত, ঘন্টায় ১২টি গরু ও ২০টি ছাগল জবাই হবে

ঝিনাইদহে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ সম্পন্ন

ঝিনাইদহ পৌরসভায় আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গবাদিপশু জবাইয়ের লক্ষ্যে নির্মিত দেশের অন্যতম সর্বাধুনিক কসাইখানাটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)’ এর আওতায় এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বুধবার (১৭ জুন) সকালে সর্বাধুনিক এই কসাইখানাটির উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও হস্তান্তর

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, কসাইখানাটি নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’ কসাইখানার নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে প্রক্রিয়া চলার পর, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (১৮-০২-২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে আধুনিক এই কসাইখানাটি ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্যয় ও অবকাঠামোগত বিবরণ

সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই কসাইখানার মূল উৎপাদন বা পশু জবাইয়ের স্থানটি আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।

স্বয়ংক্রিয় জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা

ঝিনাইদহের পৌর প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, এই সর্বাধুনিক কসাইখানাটিতে গরু ও ছাগল আলাদাভাবে জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দুটি পৃথক ‘স্লটার লাইন’ রয়েছে। এই স্বয়ংক্রিয় কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ

পশু জবাইয়ের পূর্বে ধৌতকরণ এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এখানে একটি বিশেষ হোল্ডিং জোন রয়েছে। সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চামড়া ছাড়ানো এবং কাটার জন্য স্লটার বক্স, ওভারহেড রেল, নিউমেটিক কাটার, ওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, ওজন মাপার স্কেল, চামড়া তোলার মেশিন, ইলেকট্রিক করাত এবং বিশেষ হুক-এর ব্যবস্থা রয়েছে। মাংসের গুণগত মান ঠিক রাখা এবং সংরক্ষণের জন্য এখানে একটি আধুনিক চিলিং রুম ও কম্প্রেশার রুমও স্থাপন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব সুবিধা

সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কসাইখানায় নিজস্ব জেনারেটর, সাব-স্টেশন এবং পরিবেশবান্ধব সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, কসাইখানায় একটি শক্তিশালী ওয়াটার পাম্প, গরম পানি সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডব্লিউটিপি) এবং বর্জ্য পরিশোধনের জন্য ফিল্টার বেডসহ একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টও রয়েছে।

নাগরিক সুবিধা ও পরিবেশ সুরক্ষা

ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ মিল্টন জানান, এই আধুনিক কসাইখানাটি চালু হওয়ার ফলে ঝিনাইদহ পৌরবাসী সম্পূর্ণ রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংসের নিশ্চয়তা পাবেন। পাশাপাশি, যত্রতত্র পশু জবাইয়ের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ থেকেও শহর রক্ষা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।