ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় একটি অত্যাধুনিক কসাইখানার নির্মাণ কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (এলডিডিপি) এর অধীনে এই বৃহৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গবাদিপশু জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যেই এই কসাইখানাটি স্থাপন করা হয়েছে।
আজ বুধবার, ১৭ জুন, সকাল সাড়ে ৯টায় আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কসাইখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নুসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এই কসাইখানা নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি এলডিডিপি এবং ঝিনাইদহ পৌর কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিস্টালটেক-এনএকে (জেভি)’ নির্মাণ কাজ শুরু করে। দীর্ঘ আড়াই বছরের নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (১৮-০২-২০২৬) আধুনিক এই কসাইখানাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সম্পূর্ণ আধুনিক এই কসাইখানাটি নির্মাণে মোট ১০ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ৪৯ শতক জমির ওপর নির্মিত এই সুবিধার মূল উৎপাদন বা পশু জবাইয়ের স্থানটি প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
ঝিনাইদহ পৌর প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, এই সর্বাধুনিক কসাইখানায় গরু ও ছাগল আলাদাভাবে জবাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দুটি পৃথক ‘স্লটার লাইন’ স্থাপন করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় এই কসাইখানাটি প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২টি গরু এবং ২০টি ছাগল সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম।
