নাইরোবির একটি আদালত কেনিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপনের বিতর্কিত পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের তীব্র প্রতিবাদ এবং কেনিয়ার সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার দাবিতে ২৯ মে ২০২৬, শুক্রবার এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
মার্কিন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ
চলতি বছরে কেনিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিকের শরীরে ইবোলার সংক্রমণ শনাক্ত না হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী নীতি ও পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসতেই কেনিয়ার চিকিৎসকমহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ইবোলায় আক্রান্ত কোনো রোগীকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অথচ ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় যখন ভয়াবহ ইবোলা মহামারি চলছিল, তখন আক্রান্ত একাধিক মার্কিন নাগরিককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা দিয়েছিল মার্কিন সরকার। এবার মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় কেনিয়াকে ব্যবহার করার এই মার্কিন কৌশল স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে।
কেনিয়া মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স, ফার্মাসিস্টস অ্যান্ড ডেন্টিস্টস ইউনিয়নের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাভজি ভিমজি আতেল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘‘কেনিয়া একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র — এটি কোনো দেশের ভূ-রাজনৈতিক আইসোলেশন ওয়ার্ড বা বিচ্ছিন্নকরণ কেন্দ্র নয়।’’
আঞ্চলিক ইবোলা পরিস্থিতি
বর্তমানে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চল। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির সীমান্ত লাগোয়া উগান্ডা ও সাউথ সুদানের কিছু এলাকায় হাই-অ্যালার্ট জারি রয়েছে। ইতিমধ্যে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় বেশ কয়েকজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যুর পর উগান্ডা তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ এবং এ পর্যন্ত অন্তত ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো ফাঁস করে যে, আফ্রিকায় অবস্থানকালে কোনো মার্কিন নাগরিক ইবোলা আক্রান্ত হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে না ফিরিয়ে কেনিয়ার এই প্রস্তাবিত কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার গোপন পরিকল্পনা করছিল ওয়াশিংটন।
আদালতের নির্দেশ
এই সিদ্ধান্তের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেনিয়ার মানবাধিকার ও আইনি সংস্থা ‘কাতিবা ইনস্টিটিউট’ এবং ‘কেনিয়া ল সোসাইটি’ আদালতে মামলা দায়ের করে। ২৯ মে ২০২৬, শুক্রবার নাইরোবির আদালত সেই মামলার প্রাথমিক শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কেনিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া সম্ভাব্য চুক্তিটি বাতিল ও স্থগিত ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার এই রিট আবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং ততদিন পর্যন্ত ইবোলা কেন্দ্র সংক্রান্ত যেকোনো চুক্তি বা কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।
